সর্বশেষ

সারাদেশ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি, দুই সপ্তাহে ৮ জন আক্রান্ত, শিশুর মৃত্যু

আতিয়ার রহমান, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া
আতিয়ার রহমান, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ ৭:৫২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের শশীধরপুর গ্রামে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সাপের কামড়ে আক্রান্ত

গত দুই সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাপের কামড়ে আটজন আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সিয়াম (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাকি সাতজন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার শশীধরপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় সম্প্রতি সাপের উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, মাঠ-ঘাটের পাশাপাশি বাড়ির আশপাশেও আগের তুলনায় বেশি সাপ দেখা যাচ্ছে। ফলে সন্ধ্যার পর বাইরে চলাফেরা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন গ্রামবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যার পর মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে একই গ্রামের তিন নারী সাপের কামড়ের শিকার হন। তাঁরা হলেন সোলাইমান হোসেনের স্ত্রী মাসেদা খাতুন (৩৬), নাহিদুল ইসলামের স্ত্রী বিথী খাতুন (২৬) এবং মহাসিন হোসেনের স্ত্রী বিলকিস আরা (৪৯)। দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ায় তাঁরা বর্তমানে সুস্থ আছেন।

এর আগে একই গ্রামের রিফাত আলীর ছেলে সিয়াম (১২) সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে সাপে কামড় দেয়। পরে তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ২ জুন থেকে দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও চারজন সাপের কামড়ের শিকার হন। তাঁরা হলেন বৈরাগীর চর এলাকার ইন্তাজ আলী (৫৩), চক কৃষ্ণপুর গ্রামের আল-আমিন (২১), তাইবা (১০) এবং বাহিরমাটি গ্রামের লিপিয়ারা (২২)।

সব মিলিয়ে গত দুই সপ্তাহে উপজেলায় সাপের কামড়ে মোট আটজন আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে।

সাপে আক্রান্ত বিথী খাতুন ও মাসেদা খাতুন জানান, সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় তাঁরা পায়ে কামড়ের অনুভূতি পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকেরা সাপে কামড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং অ্যান্টিভেনম প্রদান করেন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোছা. দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন, গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালে মোট আটজন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে সাধারণত সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। তাই সাপে কামড়ালে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন