সর্বশেষ

সারাদেশ

মাত্র ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই ডুবল চট্টগ্রাম, নিরসন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

হাসান ফেরদৌস, চট্টগ্রাম
হাসান ফেরদৌস, চট্টগ্রাম

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। সঙ্গে ছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও সেই সামান্য বর্ষণেই আবারও জলাবদ্ধতার পুরোনো চেহারায় ফিরে আসে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম।

মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন লাখো নগরবাসী। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুপানি থেকে কোমরসমান এবং কোথাও কোথাও বুকসমান পানি জমে যায়।

গত চার বছরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তবে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরী ডুবে যাওয়ায় এসব প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রবর্তক মোড়, আগ্রাবাদ, হালিশহর, তিন পুলের মাথা, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর ও বহদ্দারহাটসহ নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় প্রবর্তক মোড়ে। গতকাল যেখানে হাঁটুপানি ছিল, সেখানে আজ পানি বুকসমান পর্যন্ত উঠে যায়। বদনা শাহ মাজার গেট থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত পুরো সড়ক পানিতে থৈ থৈ করতে দেখা যায়।

প্রবর্তক মোড় এলাকায় হিজড়া খালের সম্প্রসারণ কাজ চলমান থাকায় সেখানে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়াকে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে সিটি কর্পোরেশন। তাদের দাবি, খালের মুখ বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে এবং পানি উপচে সরাসরি প্রধান সড়কে উঠে আসছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী বলেন, সিডিএর উন্নয়ন কাজের কারণেই পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জলাবদ্ধতার কারণে নগরের সড়কে গণপরিবহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পানির মধ্যে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার আশঙ্কায় অনেক চালক গাড়ি বের করেননি। এ সুযোগে রিকশাচালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। যেখানে ৩০ টাকার ভাড়া ছিল, সেখানে যাত্রীদের ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের আওতায় ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হলেও মাত্র ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই নগর ডুবে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, সমন্বয়হীন উন্নয়ন এবং খালের মুখে দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ দিয়ে কাজ ফেলে রাখাই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। দ্রুত এসব বাঁধ অপসারণ না করলে আগামী বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত পানি নিষ্কাশনের নির্দেশ দেন এবং চলমান উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন।

মেয়র বলেন, “নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কোথায় সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

১১৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন