সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

আফগান সীমান্তে নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গড়ে তুলছে চীন: নিরাপত্তা ও বাণিজ্য কৌশলের নতুন দিগন্ত

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২:২১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
আফগানিস্তানের ওয়াখান করিডর ঘেঁষে নতুন প্রশাসনিক এলাকা ‘সেনলিং কাউন্টি’ গঠন করেছে চীন, যা অঞ্চলটির ভূরাজনৈতিক গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন ও সংঘাতপ্রবণ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল এখন ধীরে ধীরে বাণিজ্য ও কৌশলগত সংযোগের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ নয়; বরং মধ্য এশিয়ায় চীনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ। সিনচিয়াংয়ের তাসকোরগান তাজিক স্বায়ত্তশাসিত কাউন্টি ভেঙে নতুন এই প্রশাসনিক ইউনিট গঠন করা হয়েছে, যা সম্ভাব্য ‘ওয়াখান সড়ক’ নির্মাণের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এই সড়ক বাস্তবায়িত হলে প্রায় এক শতাব্দী পর সরাসরি স্থলপথে যুক্ত হবে চীন ও আফগানিস্তান। এতে করে বাণিজ্য ও যোগাযোগে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে, আফগানিস্তানকে ঘিরে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর বাণিজ্য সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আরও গতিশীল হবে।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর ওয়াখান করিডর হয়ে সড়ক নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তালেবান নেতৃত্ব মনে করে, এটি দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং চীন-মধ্যপ্রাচ্য সংযোগে নতুন পথ খুলে দেবে।

চীনের এই পদক্ষেপকে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ জোরদার, জঙ্গিবাদ ও চোরাচালান রোধ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।

অন্যদিকে, মধ্য এশিয়ার দেশগুলোও আফগানিস্তানকে ঘিরে নতুন করে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। সীমান্ত বিরোধ মিটিয়ে তারা এখন বাণিজ্য ও পরিবহন সংযোগ জোরদারে মনোযোগী। টাপি গ্যাস পাইপলাইন, কাসা-১০০০ বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ট্রান্স-আফগান রেলপথের মতো উদ্যোগগুলোও ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের পথে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও রয়েছে। ওয়াখান করিডর এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা এবং মাদক চোরাচালান বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব বাড়ছে।

সব মিলিয়ে, সেনলিং কাউন্টি প্রতিষ্ঠা একটি প্রশাসনিক পরিবর্তনের বাইরে গিয়ে চীনের বৃহত্তর কৌশলগত পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি স্পষ্ট করে যে, চীন তার পশ্চিম সীমান্তকে শুধু নিরাপত্তা বলয় নয়, বরং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক করিডর হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

১০৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন