ভারতে সম্পদের কেন্দ্রীকরণ বাড়ছে, একদিকে ধনী বৃদ্ধি অন্যদিকে বেকারত্ব—বৈষম্য নিয়ে নতুন বিতর্ক
রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:১৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতে একদিকে যখন বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও আয় বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই দ্রুত বাড়ছে অতি ধনী ব্যক্তির সংখ্যা। আন্তর্জাতিক সংস্থা নাইট ফ্র্যাঙ্কের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে, যা দেশটিতে অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ‘ওয়েলথ রিপোর্ট’ অনুযায়ী ভারতে বর্তমানে প্রায় ১৯ হাজার ৮৭৭ জন অতি ধনী ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের প্রত্যেকের সম্পদ অন্তত ৩ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। এই সূচকে ভারত এখন বিশ্বের ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, মাথাপিছু আয়ের হিসাবে ভারতের অবস্থান ১৫০-এর নিচে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পদের বণ্টনের বড় ব্যবধানকে স্পষ্ট করে তুলছে।
নাইট ফ্র্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতে অতি ধনী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে অতি ধনীর সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের ভেতরে বিতর্কও তীব্র হচ্ছে। সমালোচকদের দাবি, বেকারত্ব বাড়ার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সংগঠিত খাতে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে পড়ছে। ফলে একদিকে যখন বড় একটি অংশ জীবনধারণে সংগ্রাম করছে, অন্যদিকে অল্প কিছু মানুষের হাতে বিপুল সম্পদ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, শুধু ধনীদের সংখ্যা বৃদ্ধি কোনো দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক অগ্রগতির মানদণ্ড নয়; বরং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নই প্রকৃত সাফল্যের সূচক হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রতিবেদনকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক নীতির কারণে দেশে সম্পদ সৃষ্টি বাড়ছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, করপোরেট খাতে কর ছাড় ও কিছু নীতিগত সুবিধার কারণে বৈষম্য আরও বাড়ছে, যেখানে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের চাপ কমানোর কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের বৈষম্য অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সামাজিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে
১২০ বার পড়া হয়েছে