পোশাকের পর দেশে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন তারেক রহমান
শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬ ৯:০৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দক্ষ তরুণ জনশক্তি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পোশাক শিল্পের পর দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর খাত।
রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম এবং বায়োটেকনোলজি, ইলেকট্রনিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্স সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শনিবার এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতা ও নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই বাংলাদেশ কৃষি, তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয় এবং ডিজিটাল সেবায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশের মেধাবী তরুণ ও দক্ষ জনশক্তির ওপর আস্থা রেখে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পেও বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক গন্তব্য হতে পারে।” এ খাতের উন্নয়নে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, পেশাজীবী ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী এমন এক ধরনের পদার্থ, যার বিদ্যুৎ পরিবাহিতা পরিবাহী ও অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। আধুনিক প্রযুক্তির প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার রয়েছে। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, গাড়ি, এলইডি, সোলার প্যানেল, ডেটা সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয় সেমিকন্ডাক্টর।
তারেক রহমান বলেন, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই বাজার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, এর আগেই সেই আকার অর্জন হতে পারে। ফলে এই শিল্পে বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে ১০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ এই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর পেশাজীবী কাজ করছেন। দেশের উন্নয়নে তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, টেস্টিং, এমবেডেড সিস্টেম, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স ও অ্যাডভান্সড প্যাকেজিংয়ের মতো ক্ষেত্রে কাজ শুরু হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করেছে।
তিনি বলেন, সেমিকন্ডাক্টর খাতকে সরকার জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করছে। এ খাতের উন্নয়ন শুধু কোনো একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়; বরং এটি একটি জাতীয় উদ্যোগ।
সরকার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের কাঁচামালের ওপর শুল্ক সুবিধা, ডিজাইন সেবার রপ্তানি আয়ে নগদ প্রণোদনা এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশে বিনিয়োগবান্ধব নীতি, কর সুবিধা, বিশেষায়িত অবকাঠামো এবং হাইটেক পার্ক আধুনিকায়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি একটি বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি, গবেষণাগারের সীমাবদ্ধতা, বিনিয়োগ সংকট ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মতো চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মোহাম্মদ মুস্তফা হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ জব্বার বক্তব্য দেন।
দুই দিনের এই সম্মেলনে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের উন্নয়ন, বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্ব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি খাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে