কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাত, ট্রেন আটকে বিক্ষোভ
শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:৪৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের এক স্টাফের বিরুদ্ধে বাবা ও ছেলেকে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ যাত্রী ও স্থানীয়রা ট্রেনটি আটকে রেখে প্রায় দুই ঘণ্টা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদন্তের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। আহতরা হলেন শফিউল আওয়াল সুমন (৪০) ও তার বৃদ্ধ বাবা আব্দুর রহিম (৬৫)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ যাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে ট্রেনের লোকোমাস্টার ও পরিচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী শফিউল আওয়াল সুমন ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, বেলা ১২টা ২০ মিনিটের দিকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে পৌঁছায়। তিনি তার অসুস্থ মা ও বাবাকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রেনে উঠতে গেলে ট্রেনের এক স্টাফ তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে ওই স্টাফ তার মাকে ধাক্কা দিলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এই নিয়ে ট্রেনের বগির ভেতরে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে অভিযুক্ত স্টাফ সুমন ও তার বাবাকে লক্ষ্য করে ছুরিকাঘাত করেন। আত্মরক্ষা করতে গিয়ে তারা দুজনই হাতে গুরুতর আঘাত পান।
can ঘটনার খবর পেয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশীদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রায় দুই ঘণ্টা পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের ইনচার্জ ইতি খাতুন জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার জানান, ট্রেনের বগির দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে যাত্রীদের মারধর ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
১০৮ বার পড়া হয়েছে