সিলেটে বাড়ছে হাম, একদিনে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৩৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেট বিভাগে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে শিশুমৃত্যুও, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ২৩ জনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে মোট ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১ জনের ক্ষেত্রে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছিল।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে সিলেটের জালালাবাদ এলাকার ৯ মাস বয়সী এক শিশু শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এছাড়া সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ১০ মাস ও ৫ মাস বয়সী আরও দুই শিশু ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভাগে ৮০ জনের শরীরে ল্যাব-নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। জেলাভিত্তিক হিসাবে হবিগঞ্জে ৭ জন (এর মধ্যে ২ জন রুবেলা আক্রান্ত), মৌলভীবাজারে ১৫ জন, সুনামগঞ্জে ৩২ জন এবং সিলেট জেলায় ২৬ জন শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সর্বাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে অন্য রোগীদের ভর্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে সিলেট বিভাগজুড়ে ১৬৯ জন সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যা স্বাস্থ্যসেবায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১২৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং আরও ১,১৭০ জন শিশুর মধ্যে উপসর্গ দেখা গেছে।
১৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ২৮ হাজার ৩৩৪ জনের বেশি শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
হামের কারণে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় বেশি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, আক্রান্তদের পৃথকীকরণ এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। একই সঙ্গে প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
১১৯ বার পড়া হয়েছে