সর্বশেষ

সারাদেশ

নাটোরে চাঞ্চল্যকর মোবাইল চুরির মামলায় পিবিআইকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ

কলিট তালুকদার, পাবনা
কলিট তালুকদার, পাবনা

শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ২:২৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
পাবনার এক ব্যবসায়ীর দায়ের করা নাটোরের আলোচিত মোবাইল ফোনের পাইকারি বিক্রয় কেন্দ্রে চুরির মামলায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী নারাজি আবেদন করলে আদালত তা আমলে নিয়ে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।

নাটোর আমলী আদালতের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল তারেক নারাজি আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), নাটোরকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। গত ২৫ মার্চ এ আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে ন্যায়বিচারের আশায় আছেন মামলার বাদী পাবনার ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান টিপু।

মামলার বাদী আব্দুল মান্নান টিপু জানান, নাটোর শহরের আলাইপুর এলাকায় অবস্থিত আব্দুল্লাহ প্লাজার দ্বিতীয় তলায় তার “মুগ্ধ কর্পোরেশন” নামে মোবাইল ফোনের পাইকারি বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ছিল। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন পাইকারি বিক্রি করা হতো এবং দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছিল।

তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার গৌরীপুর নবীনগর এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে রাহিনুল ইসলাম কবির এবং সেলস সুপারভাইজার হিসেবে তার সহোদর ভাই আলিউল কবির দায়িত্বে ছিলেন। তারা প্রতিষ্ঠানটির নগদ টাকা, ব্যাংক লেনদেন এবং মোবাইল ফোন ক্রয়-বিক্রয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

ঘটনার বিবরণে বলা হয়, গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে তালার চাবি নিয়ে ম্যানেজার ও সেলস সুপারভাইজার বাড়ি চলে যান। পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় প্রতিষ্ঠান খোলা হয়নি। ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রতিষ্ঠান খোলার কথা থাকলেও তা খোলা হয়নি।

পরে কোম্পানির ডিএসআর এসে দোকান বন্ধ পেয়ে মালিক আব্দুল মান্নান টিপুকে বিষয়টি জানান। এরপর ম্যানেজার ও সেলস সুপারভাইজারকে ফোনে কল করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তাদের বাড়িতেও খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে মার্কেট মালিকের ছেলে ও স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায় সবকিছু তছনছ অবস্থায় রয়েছে। পরে হিসাব করে দেখা যায়, নগদ ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনসহ মোট ৪৮ লাখ ৫২ হাজার টাকার মালামাল, ব্যাংকের চেক বই, চাবি এবং অফিসে ব্যবহৃত সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় নাটোর সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার বাদী আব্দুল মান্নান টিপু অভিযোগ করে বলেন, মামলার তদন্তভার পাওয়া এসআই গোলাম মোক্তাদী শুরু থেকেই গড়িমসি করেন এবং তার কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ দাবি করেন। উৎকোচ না দেওয়ায় তিনি অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন, যেখানে অভিযুক্তদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনি আরও দাবি করেন, তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি এবং কোনো সাক্ষ্যও গ্রহণ করেননি।

অন্যদিকে আব্দুল্লাহ প্লাজার মালিকের ছেলে ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মামলার ফলাফল দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সঠিকভাবে তদন্ত না করায় প্রকৃত ঘটনা আড়াল হয়েছে। তাদের দাবি, তালা ভাঙার সময় অনেক ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সবাই চুরির বিষয়টি স্বচক্ষে দেখেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, পিবিআই সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ন্যায়বিচার পাবেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া পিবিআই নাটোরের ইন্সপেক্টর তাজমুল বলেন, আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন