সর্বশেষ

সারাদেশ

কলাপাড়ায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে এনজিও কর্মীদের মারধরের অভিযোগ

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ২:৩৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে চুল ধরে মারধরসহ শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এনজিও সংস্থা কোডেকের কর্মীদের বিরুদ্ধে।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের গন্ডামারী গ্রামে ওই গৃহবধূর নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই গৃহবধূকে চুল ধরে কিল, ঘুষি ও পেটে লাথি মারলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত গৃহবধূ মোসা. খাইরুন বেগম জানান, গত বছর ডিসেম্বরে কোডেক থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তার প্রবাসী স্বামী নজির মোল্লা কুয়েতে যান। বিদেশে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তিনি এখনো টাকা পাঠাতে পারেননি। এতে তিন সন্তান ও অনাগত সন্তান নিয়ে তিনি চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন। এর মধ্যে কিস্তি আদায়ের জন্য নিয়মিতভাবে এনজিও কর্মীরা তার বাড়িতে আসছিলেন।

তিনি আরও জানান, অভাবের মধ্যেও তিনি দুইটি কিস্তি পরিশোধ করেছেন। শনিবার দুপুরে কোডেক ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনিরসহ আরও তিনজন তার বাড়িতে যান এবং বকেয়া কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ দেন। অর্থ না থাকায় তিনি বলেন, প্রবাস থেকে টাকা পাঠালেই পরিশোধ করবেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অফিসে নিয়ে গিয়ে বেঁধে রাখার কথা বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অসুস্থতার কথা জানালে দুই নারী কর্মী তাকে গালাগাল করেন বলেও অভিযোগ করেন খাইরুন বেগম। একপর্যায়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হতে বললে ম্যানেজার মনির হোসেন তার চুলের মুঠি ধরে টেনে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি দরজা ধরে রাখলে তাকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে নারী কর্মীরা তাকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে তিনি বমি করলে এনজিও কর্মীরা স্থান ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি সদস্য মালা বেগম জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এমন মারধরের ঘটনা তিনি মেনে নিতে পারছেন না বলে জানান।

আহত গৃহবধূর চাচি শাশুড়ি পরীবানু বলেন, ঘটনাটি তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। গৃহবধূ বারবার অনুরোধ করে বললেও টাকা না থাকায় তাকে অফিসে নিয়ে বেঁধে রাখার কথা বলা হয়। পরে চুলের মুঠি ধরে টেনে বের করার চেষ্টা ও মারধর করা হয় বলেও তিনি জানান।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গৃহবধূর ভাসুর রফিক মোল্লা বলেন, প্রবাসে থাকা ভাই টাকা পাঠাতে না পারায় তার স্ত্রীকে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

কলাপাড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ববি মালকার জানান, গৃহবধূর পেটে আঘাতের কারণে তাকে ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আলট্রাসনোগ্রামে দেখা গেছে, চার মাসের গর্ভের সন্তান সুস্থ রয়েছে।

এ বিষয়ে কোডেক এনজিও ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে কেবল অফিসে আসতে বলা হয়েছিল, কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিস্তি বকেয়া রেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ অবহিত করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

২৬৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন