বৈশাখে ব্যস্ততা বাড়লেও টিকে থাকার লড়াইয়ে মানিকগঞ্জের ‘মিষ্টি সাজ’ শিল্প
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:২৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী “মিষ্টি সাজ” শিল্পে বেড়েছে ব্যস্ততা। তবে কাজের চাপ বাড়লেও স্বস্তি নেই এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগরদের জীবনে।
জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের ভাটারা গ্রাম একসময় চিনির তৈরি “মিষ্টি সাজ” শিল্পের জন্য সুপরিচিত ছিল। শত বছরের ঐতিহ্য বহন করা এই শিল্প আজ কালের বিবর্তন আর আধুনিকতার চাপে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। আগে যেখানে হাতে তৈরি বাতাসা, কদমা, হাতি-ঘোড়াসহ নানা ধরনের চিনির খেলনা তৈরি হতো, এখন সেই জায়গা দখল করছে যান্ত্রিক উৎপাদন। ফলে আগ্রহ হারাচ্ছেন নতুন প্রজন্ম, অনেকেই ছাড়ছেন পৈত্রিক পেশা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় গ্রামবাংলার বিভিন্ন মেলা ও উৎসবে “মিষ্টি সাজ” ছিল অন্যতম আকর্ষণ। বৈশাখ এলেই কারিগরদের ব্যস্ততা থাকত চোখে পড়ার মতো। এখনও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কিছুটা চাহিদা বাড়লেও তা আর আগের মতো নেই। সারা বছর তেমন কাজ না থাকায় অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন কারিগররা।
ভাটারা গ্রামের কারিগর শ্যামল বনিক বলেন, “এই পেশায় এখন ভবিষ্যৎ নেই। ভালোবাসা থেকেই অনেকেই ধরে রেখেছি। সারা বছর কাজ থাকে না, শুধু বৈশাখে কিছুটা চাপ বাড়ে।”
একই গ্রামের গৃহবধূ মনিশা বনিক জানান, সংসারের কাজের ফাঁকে সময় পেলেই তিনি “মিষ্টি সাজ” তৈরিতে হাত লাগান। “বৈশাখ এলেই কাজ বাড়ে, তখন কিছু আয় হয়। তবে সারা বছর তেমন কাজ থাকে না,” বলেন তিনি।
ষাটোর্ধ্ব কারিগর রঞ্জিত বনিকের কণ্ঠে শোনা গেল হতাশার সুর। তিনি বলেন, “একসময় সারা বছরই এই কাজ চলত। পাড়ায় পাড়ায় চিনির কড়াইয়ের গন্ধ থাকত। এখন আর সেই দিন নেই। আর্থিক সংকট আর আধুনিকতার কারণে এই শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। সরকারি সহায়তা পেলে হয়তো নতুন প্রজন্ম আগ্রহী হবে।”
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অংশ। এই উৎসবের সঙ্গে ‘মিষ্টি সাজ’ শিল্পও জড়িয়ে আছে। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।”
বৈশাখের আমেজে কিছুটা প্রাণ ফিরে পেলেও মানিকগঞ্জের “মিষ্টি সাজ” শিল্প আজ টিকে থাকার কঠিন লড়াইয়ে। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে শত বছরের এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১১৯ বার পড়া হয়েছে