আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরীমণির হাতাহাতিতে আহত হলেন যারা
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। তবে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। পরীমণির ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের আঘাতে সাংবাদিক ও এক বিচারপ্রার্থীসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আদালতে প্রবেশের সময় এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এসব ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার, আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন এবং বিচারপ্রার্থী সুজন চন্দ্র। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে আশিকুজ্জামানের পিঠে এবং কাউছারের কাঁধ ও হাতে আঘাত লাগে। তারা ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়ার পর বেরিয়ে যাওয়ার সময় পরীমণি তাদের দিকে তেড়ে যান এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেনের হাতে খামচি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এর আগে সকাল সোয়া ১১টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান পরীমণি। আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়া পর্যন্ত তিনি গাড়িতে অবস্থান করেন। এ সময় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে ঘিরে রাখেন।
পরে আদালতকক্ষে প্রবেশের সময় সাংবাদিক ও উৎসুক মানুষের ভিড় তৈরি হয়। লিফটে ওঠার সময় ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে পরীমণির নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কি হয়। এ সময় সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইন রাজুর মোবাইল ফোন কেড়ে নেন পরীমণি। পরে তার হাত থেকে ফোনটি ফিরিয়ে নেন ওই সাংবাদিক।
রবিউল হোসাইন রাজু বলেন, পরীমণি আদালতে আসার পর সাংবাদিকেরা ভিডিও ধারণের চেষ্টা করছিলেন। লিফটে ওঠার সময় উত্তেজিত হয়ে পরীমণি তার ফোন কেড়ে নেন। এ সময় তার নিরাপত্তাকর্মীরা ট্রাইপড ভেঙে ফেলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমানের আদালতে হাজির হন পরীমণি। সেখানে তিনি আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ান। তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিনের আবেদন জানিয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
জামিন নিয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার সময়ও পরীমণিকে ঘিরে রাখেন তার নিরাপত্তাকর্মীরা। সাংবাদিকেরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে আবারও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এ সময় আদালতের বারান্দায় থাকা বিচারপ্রার্থী সুজন চন্দ্রের মাথা ফেটে যায়। তার মাথা থেকে রক্তক্ষরণ হতে দেখা যায়।
আদালত থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার আগেও সমকালের সাংবাদিক রবিউল হোসাইন রাজুর দিকে তেড়ে গিয়ে গালিগালাজ করেন পরীমণি বলে অভিযোগ উঠেছে। জাগো নিউজের প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান জানান, এ সময় পরীমণির নিরাপত্তাকর্মীরা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জাগো নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিক গণমাধ্যমকর্মী আহত হয়েছেন। একজন বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটেছে। অথচ পুরো ঘটনায় দায়িত্বে থাকা কোর্ট পুলিশের সদস্যদের তেমন ভূমিকা দেখা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, একজন আসামি প্রায় ১০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে আদালতে এসে সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনায় জড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের এমন আচরণের সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তের দাবি জানান।
ঘটনার পর দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে সমকালের সঙ্গে কথা বলেন পরীমণি। তার দাবি, ভিড়ের মধ্যে সাংবাদিকেরা তার গায়ে পড়ার চেষ্টা করেন। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় তাদের দেখতে পান তিনি।
তবে সমকালের সাংবাদিক রবিউল হোসাইন রাজু এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য, পরীমণির সঙ্গে তার যথেষ্ট দূরত্ব ছিল। ঘটনাস্থলের ভিডিও দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। কেড়ে নেওয়া মোবাইল ফোনটি তিনি পরীমণির হাত থেকে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলেও জানান।
২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আদালতে মামলাটি করেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন আদালত।
২০২৩ সালের ১৮ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পরিদর্শক মনির হোসেন পরীমণি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
ওই বছরের ১৮ এপ্রিল আদালত দুই আসামিকে ২৫ জুন হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। নির্ধারিত দিনে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তারা।
পরবর্তী সময়ে ২৭ মার্চ মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিভিশন আবেদন করেন পরীমণি। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নবম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাজ্জাদুর রহমান খান আবেদনটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মামলার বিচার কার্যক্রম চলতে বাধা নেই বলে আদেশ দেন আদালত।
১২১ বার পড়া হয়েছে