দেশ গড়ার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের: খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
শুধু পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনা দিয়ে বিশ্ব জয় করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ তোমাদের, এই দেশকে তোমাদের গড়তে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী দেশ হিসেবে পরিচিত করতে হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও কালচারে অংশগ্রহণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, বিশ্বদরবারে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হলে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন যথেষ্ট নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্তত একটি বিদেশি ভাষা শিখতে পারলে বিশ্বের কোনো দেশ বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে পিছিয়ে রাখতে পারবে না।
খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও দক্ষতা অর্জনের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার পাশাপাশি নাচ, অ্যাক্রোবেটিকসসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় পারদর্শিতা দেখিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, শিক্ষার্থীরা চাইলে একই সঙ্গে একাধিক ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখ ৬৩ হাজার শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। তাদের প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে শিশুরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যে দেশকে বিশ্বের কাছে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে অন্য কোনো দেশের নাম উল্লেখ করতে হবে না। বরং বাংলাদেশই হবে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী দেশের দৃষ্টান্ত। নতুন প্রজন্মকে দেশকে সেই অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে।
ভবিষ্যতে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে স্কুল-কলেজ, খেলার মাঠ ও সংস্কৃতিচর্চার মঞ্চে আবারও দেখা হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলার মাঠে তোমাদের সঙ্গে দেখা হবে, সংস্কৃতির মাঠে তোমাদের সঙ্গে দেখা হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহফুজুল আরম খান। বক্তব্য দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া ৪০ জন শিক্ষার্থীর হাতে সনদ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আসরের দুই সেরা ক্রীড়াবিদও বক্তব্য দেন।
এর আগে বাগেরহাট থেকে খুলনায় যাওয়ার পথে রূপসার কুদির বটতলা ও নগরীর ডাকবাংলা মোড়ে পৃথক পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে কুদির বটতলায় পৌঁছে নির্ধারিত অভ্যর্থনার অপেক্ষা না করে গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যান তিনি। এ সময় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত মেলান এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
পথসভায় প্রধানমন্ত্রী সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন। বিকেল ৩টা ৪২ মিনিটে তিনি খুলনায় পৌঁছান।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাড়তি আকর্ষণ ছিল চীনের ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্স। বর্ণিল পোশাক, ছন্দময় পরিবেশনা ও ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের তালে বিকেএসপি এবং চীনা শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা একদল শিক্ষার্থী এ পরিবেশনায় অংশ নেন। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অংশ হিসেবে তাঁদের এ পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে নতুন কুঁড়ির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুই দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটে।
১২১ বার পড়া হয়েছে