আনসার সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও কল্যাণ নিশ্চিতের আহ্বান মহাপরিচালকের
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, শিল্পকারখানা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। একই সঙ্গে সদস্যদের বেতন বৃদ্ধি, আবাসন, রেশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে ‘অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ-২০২৬’-এর সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবীন আনসার সদস্যদের সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের পাঁচ হাজারের বেশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় প্রায় ৫৫ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় তাঁদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মহাপরিচালক বলেন, নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় আনসার সদস্যদের সক্ষমতা বাড়াতে ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। দায়িত্ব পালনকালে সরকারি সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যেসব সদস্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং আহত হয়েছেন, তাঁদের প্রতিও তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ডাকাতির চেষ্টা প্রতিহত করা এবং দুষ্কৃতকারীদের অপতৎপরতা ঠেকাতে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিচ্ছেন। তাঁদের এসব কার্যক্রম বাহিনীর মর্যাদা ও গৌরব বৃদ্ধি করেছে।
অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, তাঁদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেস্ট প্রথা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিজ বিভাগে বদলির সুযোগ এবং রেশন ব্যবস্থার মান ও পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাহিনীর সংস্কার ও সদস্যদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মহাপরিচালক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাঁদের ভূমিকা আরও বাড়বে।
সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হচ্ছে। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যাতে সদস্যদের প্রাপ্য অর্থ আত্মসাৎ করতে না পারে, সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের প্রশিক্ষণ আরও যুগোপযোগী করা হয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক। মৌলিক প্রশিক্ষণে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সাধারণ ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ, অস্ত্র পরিচালনা, নিরাপত্তা পদ্ধতি, ঘটনা ব্যবস্থাপনা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আইন ও বিধিবিধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য হিসেবে তাঁদের পরিচয় সম্মানের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের প্রতীক। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হওয়া ৬০ দিনব্যাপী অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণে অনুমোদিত ৬৯২ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ৬৫৪ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৬২৭ জন সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।
প্রশিক্ষণে ফায়ারে প্রথম স্থান অর্জন করেন কুমিল্লা জেলার কাজী মো. আবু সাঈদ। ড্রিলে প্রথম হন নোয়াখালী জেলার মো. ফিজুর রহমান। আর সেরা প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচিত হন খাগড়াছড়ি জেলার মো. সাবিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মহাপরিচালক।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তুরস্কের জেন্ডারমেরি দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় দাঙ্গা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তাবিষয়ক একটি মহড়া প্রদর্শন করা হয়।
মহাপরিচালক বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনসার ব্যাটালিয়ন, আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা নিজস্ব সক্ষমতায় দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত। দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁদের সক্ষমতার প্রতিফলন সম্প্রতি গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন মোকাবিলায়ও দেখা গেছে।
প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করায় একাডেমির কমান্ড্যান্ট, প্রশিক্ষক মণ্ডলী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানান মহাপরিচালক। নবীন সদস্যদের কর্মজীবনের সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবন কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, আনসার ও ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত মহাপরিচালক) মো. সাইফুল্লাহ রাসেল, তুরস্ক থেকে আগত প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষক এবং বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্যরা।
১৩২ বার পড়া হয়েছে