সর্বশেষ

সারাদেশ

উজিরপুরে সরকারি সড়কের গাছ কাটার অভিযোগ, থানায় মামলা

সুখেন্দু এদবর, বরিশাল
সুখেন্দু এদবর, বরিশাল

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ৭:৫৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বরিশালের উজিরপুরে সানুহার-ধামুরা সড়কের উন্নয়নকাজের সুযোগে সরকারি রাস্তার দুই পাশের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক দিন ধরে নির্বিচারে গাছ কাটার ঘটনায় মঙ্গলবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সানুহার-ধামুরা সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও গাছ কাটার ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সানুহার থেকে ধামুরা সড়কের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। গত ২ নভেম্বর বিকেল চারটার দিকে কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে অফিসে ফিরে যান উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায়। পরদিন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে আবারও সড়কটি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি মাঝের অংশে তিন থেকে চারটি গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান।

সরেজমিনে সানুহার-ধামুরা সড়কে গিয়ে গাছ কাটার চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক দিন আগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা সড়কের পাশের সরকারি গাছগুলোতে চিহ্ন দিয়ে যান। এরপর থেকেই শুরু হয় গাছ কেটে নেওয়ার কার্যক্রম। ইতিমধ্যে সানুহার থেকে কচুয়া পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির উন্নয়নকাজের জন্য দুই পাশে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল সরকারি জায়গার গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ীসহ কয়েকজনকে দায়ী করেন। পরে দলীয় নেতাদের অনুরোধে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বুধবার দুপুরে তিনি স্বীকার করেন। তবে গাছ কাটার ঘটনা সত্য বলে দাবি করেছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উজিরপুর বন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, গাছগুলো সামাজিক বনায়নের আওতাভুক্ত নয়। তবে শুনেছেন, সাবেক এক সংসদ সদস্য স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে গাছগুলো রোপণ করেছিলেন। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হলেও গাছগুলো কারা লাগিয়েছিলেন, তা এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সরকারি জায়গার গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী সুজা বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০