সর্বশেষ

সারাদেশ

গাজীপুরে কাজে ফিরছেন শ্রমিকেরা, আশুলিয়ায় ৩৫ কারখানায় ছুটি

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ৮:১৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ ও সংঘাতের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার মধ্য দিয়ে কারখানাগুলোতে ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য। তবে ঢাকার আশুলিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় ৩৫টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দুই শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে কয়েক দিনের অস্থিরতা কাটিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছে। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা কয়েক দিন সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের পর বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকদের কারখানায় যোগ দিতে দেখা গেছে। সড়কে বিক্ষোভের পরিবর্তে বিভিন্ন কারখানায় দলবদ্ধভাবে প্রবেশ করছেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গাজীপুরের কোনো মহাসড়ক বা আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিকদের অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে রয়েছেন বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে বিজিবির ১২ প্লাটুন, আনসারের পাঁচ প্লাটুন ও এসআরবির আট প্লাটুন সদস্য রয়েছেন।

গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন জানান, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, আন্দোলনের নামে যাতে নাশকতা বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যে মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। অন্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন।

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করা হলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনা ঘটে।

আন্দোলনের মধ্যে পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি ও কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হন। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

অস্থিরতার কারণে শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের মধ্যে মারধরের শিকার হয়ে তৌফিক হোসেন শেখ নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

অন্যদিকে, ঢাকার আশুলিয়ায় ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে কারখানায় আসেন। প্রথমে নিট এশিয়া ও আল-মুসলিম কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলন শুরু করেন। পরে আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির কারণে ৩৫টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে কিছু কারখানা আগে থেকেই নোটিশ দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

শিল্পাঞ্চলসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টস, নিট এশিয়া, আল-মুসলিম, ট্রাউজার লাইন, নিউ এইজ, হা-মীম গ্রুপ, শারমিন গ্রুপ, ডেকো গার্মেন্টস, বেঙ্গল গ্রুপ ও সাদিয়া ফ্যাশনসহ ১০টি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এসব এলাকার অনন্ত ও হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

নরসিংহপুর, জিরাবো ও বাড়ইপাড়া এলাকার আটটি কারখানা হলো পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেড, আর্টিস্টিক ডিজাইন লিমিটেড, জনরন সোয়েটার লিমিটেড, ফেরারী গার্মেন্টস লিমিটেড, ডেনিটেক্স লিমিটেড, আনলিমা টেক্সটাইল লিমিটেড, আল ইসলাম টেক্সটাইল লিমিটেড ও জি কিউ ইন্ডাস্ট্রিজ।

এ ছাড়া কাঠগড়া, আমতলা ও নয়াপাড়া এলাকার ১০টি কারখানা হলো মিলিনিয়াম টেক্সটাইল লিমিটেড, হেসং কোরিয়া লিমিটেড, কন্টিনেন্টাল গার্মেন্টস লিমিটেড, টেক্সটাউন গ্রুপ, আফিয়া নিটওয়্যার লিমিটেড, নাঈম নিটওয়্যার লিমিটেড, জিহান গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, লেদারেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড, এভারব্রাইট সোয়েটার লিমিটেড ও গ্রিন লাইফ নীটেক্স লিমিটেড।

জামগড়া এলাকার সাতটি কারখানা হলো ফ্যাশন ফোরাম লিমিটেড, সাফা সোয়েটার, উঁচু ফ্যাশন, দিপস অ্যাপারেলস, এফ এন এফ অ্যান্ড ট্রেড ফ্যাশন, ফ্যাশন ইট কোম্পানি ও আয়েশা ক্লোথিং (পলমল গ্রুপ)।

শিল্প পুলিশ আশুলিয়া জোনের পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকার কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু কারখানা আগে থেকেই বন্ধ ছিল। সকালে অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেন। পরে নিট এশিয়া ও আল-মুসলিম কারখানায় আন্দোলন শুরু হয়।

তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্প পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আভাস মিললেও আশুলিয়ায় নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় দুই শিল্পাঞ্চলেই সতর্ক নজর রাখছে প্রশাসন।

১২৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০