সর্বশেষ

জাতীয়

তাহসিফের মৃত্যুর তদন্তে নতুন সূত্র, তরুণীর সন্ধানে পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ৬:১৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার আগে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট ও বারে তাহসিফ ও তাঁর বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে দেখা যাওয়া এক তরুণীকে খুঁজছেন তদন্তকারীরা। তাঁকে শনাক্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে মৃত্যুর আগে তাহসিফের গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

এদিকে তাহসিফের বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দীপকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে নৌপুলিশ। দীপের দাবি, টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তবে তাঁর বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটনে সম্প্রতি নতুন একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ওই ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তাহসিফ ও ২৪ থেকে ২৫ বছর বয়সী এক তরুণী মোটরসাইকেলে করে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’-এ পৌঁছান। তাঁদের সঙ্গে হেলমেট পরা অবস্থায় ছিলেন দীপ।

ফুটেজে তরুণীকে গেঞ্জি, প্যান্ট ও কেডস পরা অবস্থায় দেখা যায়। তাঁর হাতে ছিল একটি সাদা পলিথিনের ব্যাগ। সেখানে তাঁরা প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান করেন। এরপর তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় চলে যান। তরুণী তাঁদের সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

তদন্তকারীদের ধারণা, ওই তরুণীকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।

মামলার তদন্ত ও রিমান্ড আবেদনের নথি অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে দীপের ডাকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে নিজের বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

পরবর্তী সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার রাতে তাহসিফকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন দীপ। প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় দীপের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথা আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, মাজার বস্তি এলাকায় ইউনিফর্ম পরা দুজন পুলিশ সদস্যকে দেখে তাঁরা ভয় পেয়ে দুই দিকে দৌড়ে যান। একপর্যায়ে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। তবে পুলিশের ধারণা, মাদক সেবন কিংবা অন্য কোনো অপরাধের সন্দেহে তাঁদের ধাওয়া করা হয়ে থাকতে পারে।

তদন্তে এখনো কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। ওই দুই পুলিশ সদস্য কারা ছিলেন, তাঁরা কেন ধাওয়া করেছিলেন, তাহসিফ সত্যিই নদে ঝাঁপ দিয়েছিলেন কি না এবং ঘটনাস্থলে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কীভাবে পৌঁছেছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, দীপের দেওয়া তথ্যে অসংগতি ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

নৌপুলিশ ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পুরো ঘটনাক্রমে তাহসিফের সঙ্গে ছিলেন দীপ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের সম্ভাবনা রয়েছে। আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তাহসিফ পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, নাকি এর পেছনে পূর্বপরিকল্পিত কোনো ঘটনা ছিল, তা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফ কার কার সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তাঁর ব্যবহৃত আইফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারের কাজ চলছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীপকে আটক করে। তাঁকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর শুক্রবার রাতে নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

ওই মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

১১৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০