কলাপাড়ায় শ্রেণিকক্ষে পড়ে চিৎকার করায় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালেন শিক্ষক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শ্রেণিকক্ষে পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়ে চিৎকার করায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই শিশু শিক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
আহত শিক্ষার্থীর নাম আরেফিন ছিদ্দিকি (১১)। সে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র এবং কলাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর হোসেনের ছেলে। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বজন ও সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের পাঠদান চলাকালে আরেফিন দুর্ঘটনাবশত নিচে পড়ে গিয়ে পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা পায়। ব্যথার তীব্রতায় সে কিছুটা জোরে চিৎকার করে উঠলে প্রতিষ্ঠানের খণ্ডকালীন শিক্ষক রাশেদ শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি পরিস্থিতি না জেনেই বেত দিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন।
শিক্ষার্থীর বাবা আলমগীর হোসেন জানান, শিক্ষকের বেত্রাঘাতে আরেফিনের শরীরের বিভিন্ন স্থান ফেটে রক্ত বের হয় এবং বেশ কয়েকটি স্থানে গুরুতর ফোলা জখম তৈরি হয়। মারধরের পর শিশুটি বাসায় ফিরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ জানানো হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সহপাঠীরা জানায়, আরেফিন পড়ে গিয়ে ব্যথায় চিৎকার করেছিল মাত্র। কিন্তু শিক্ষক কক্ষে ঢুকেই তাকে মারধর শুরু করেন এবং কোনো কিছু জিজ্ঞেসও করেননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রাশেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার স্ত্রী জানান, তিনি ফোন ব্যবহার করেন না। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য ইউএনও মহোদয়ের কাছে যাওয়া হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, বিষয়টির জেরে উভয় পক্ষই এসেছিল এবং ওই শিক্ষক ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তবে কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি; অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১৬ বার পড়া হয়েছে