ফ্রান্সে গবেষণার বৃত্তি, মাসে ভাতা প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশবিষয়ক গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক গবেষকদের বৃত্তি দিচ্ছে ফ্রান্সের ‘মেক আওয়ার প্ল্যানেট গ্রেট এগেইন’ কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত গবেষকেরা ফ্রান্সে ১২ মাস গবেষণার সুযোগ পাবেন। তাঁদের মাসে ২ হাজার ৫০০ ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে থাকা ও স্থায়ী হওয়ার খরচের জন্য এককালীন ৫০০ ইউরো সহায়তাও রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের কর্মসূচিতে আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬।
বৃত্তিতে কী পরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে
‘মেক আওয়ার প্ল্যানেট গ্রেট এগেইন’ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত গবেষকেরা ১২ মাসের জন্য আর্থিক সহায়তা পাবেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মাসিক ভাতা ২ হাজার ৫০০ ইউরো। এ ছাড়া ফ্রান্সে গিয়ে প্রাথমিকভাবে বসবাস ও স্থায়ী হওয়ার খরচ মেটাতে এককালীন ৫০০ ইউরো দেওয়া হবে।
বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে মাসিক ভাতার পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪০০ টাকা। এককালীন স্থাপন ভাতা প্রায় ৬৯ হাজার টাকা। এ হিসাবে ১২ মাসের ভাতা বাবদ মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। স্থাপন ভাতাসহ মোট আর্থিক সহায়তা হতে পারে প্রায় ৪২ লাখ ১৪ হাজার টাকা।
এ ছাড়া নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য সহায়তার সুযোগ থাকতে পারে। তবে সহায়তার ধরন ও শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা দেখা প্রয়োজন।
এখানে ইউরোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার আনুমানিক বিনিময় হার ১ ইউরো সমান ১৩৮ টাকা ১৬ পয়সা ধরে হিসাব করা হয়েছে। বিনিময় হার পরিবর্তিত হলে টাকার অঙ্কও কমবেশি হবে।
যেসব বিষয়ে গবেষণার সুযোগ
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নে বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে উৎসাহিত করা এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রে গবেষণার সুযোগ রয়েছে।
1. পৃথিবীর প্রাকৃতিক ব্যবস্থা ও পরিবেশবিষয়ক বিজ্ঞান।
2. জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন।
3. জ্বালানি রূপান্তর।
4. পরিবেশগত সমস্যার সামাজিক প্রভাব।
5. মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের সমন্বিত স্বাস্থ্য।
আবেদনকারীর গবেষণা প্রস্তাবে নতুন ধারণা, গবেষণার বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব এবং পরিবেশ ও সমাজে সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরতে হবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন
এ বৃত্তি মূলত আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রারম্ভিক গবেষকদের জন্য। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে থাকা গবেষকেরা আবেদনের যোগ্য হতে পারেন।
আবেদনকারীর গবেষণা প্রস্তাব কর্মসূচির নির্ধারিত বিষয়গুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। একই সঙ্গে ফ্রান্সের উপযুক্ত কোনো গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বাবধায়কের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে।
তবে ২০২৭ সালের কর্মসূচিতে আবেদনের যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পিএইচডি অর্জনের সময়সীমা, নাগরিকত্ব এবং অন্যান্য শর্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা থেকে যাচাই করা জরুরি।
আবেদনের জন্য যেসব নথি প্রয়োজন
আবেদনের প্রস্তুতি হিসেবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহে রাখতে হবে। প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, সাধারণত প্রয়োজন হতে পারে—
গবেষণার অভিজ্ঞতা ও প্রকাশনার তালিকাসহ জীবনবৃত্তান্ত।
পিএইচডি সনদ অথবা ডিগ্রি সম্পন্ন করার প্রমাণপত্র।
ফ্রান্সের সংশ্লিষ্ট গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়কের জীবনবৃত্তান্ত।
গবেষণায় সহায়তার প্রত্যয়নপত্র।
সুপারিশপত্র।
পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্রের অনুলিপি।
গবেষণার উদ্দেশ্য, পদ্ধতি, সময়সূচি ও সম্ভাব্য প্রভাব উল্লেখ করে তৈরি গবেষণা প্রস্তাব।
নথির নির্দিষ্ট ধরন, ভাষা ও জমা দেওয়ার পদ্ধতি কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা অনুযায়ী অনুসরণ করতে হবে।
যেভাবে আবেদন করবেন
আগ্রহী গবেষকদের প্রথমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা পড়ে যোগ্যতা ও আবেদনের শর্ত যাচাই করতে হবে। এরপর ফ্রান্সের উপযুক্ত গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করতে হবে।
গ্লোবাল সাউথ অপরচুনিটিজের প্রকাশিত তথ্যে ২০২৭ সালের কর্মসূচির আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে সময়সীমা, যোগ্যতা ও আবেদনপদ্ধতি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে