সর্বশেষ

আইন-আদালত

কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৪০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানসহ অপর তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় অপর তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা।

রায়ে মাহবুবউল আলম হানিফকে তিনটি অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় অভিযোগে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার অপর তিন আসামিকেও তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রথম অভিযোগে তাঁদের আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় অভিযোগে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া চতুর্থ ও পঞ্চম অভিযোগে চার আসামিকেই দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিদের স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানে হতাহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় বা ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’।

অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যথেষ্ট—এমন বক্তব্য ওবায়দুল কাদের দেওয়ার সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সমর্থন জানিয়েছিলেন হানিফসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া ও ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে মামলায়।

গত ৭ অক্টোবর চার আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এর আগে গত বছরের ২ নভেম্বর তাঁদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় এবং পরদিন ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন। একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে জানালে ট্রাইব্যুনাল দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাঁদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। পরে ২৩ অক্টোবর আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করেন ট্রাইব্যুনাল এবং ২৭ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করা হয়।

মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও মোট ১৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর ১১ মে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে।

১২৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আইন-আদালত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০