সর্বশেষ

রাজনীতি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট শেষ, চলছে গণনা

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর শুরু হয়েছে গণনা। সকাল ৮টা থেকে আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৫২ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য জানিয়েছিল নির্বাচন কার্যালয়। তবে ভোটগ্রহণ শেষে মোট ভোটের হার এখনো জানা যায়নি। নির্বাচনে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও জামায়াতে ইসলামী এবং সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ

ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রগুলোতে গণনা শুরু হয়। গণনা শেষে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ ও সমন্বয় করে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হবে।

বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে দেখা গেছে। নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটারদের পরিচয় যাচাই করে নির্ধারিত নিয়মে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

সকালে ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ৫২ শতাংশ। তবে চূড়ান্ত ভোটের হার এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

প্রবীণ ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি

বিভিন্ন বয়সী ভোটারের উপস্থিতিতে কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। ৮০ বছর বয়সী নুরজাহান বেগম ভাতিজির হাত ধরে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসেন। নিজের শারীরিক অসুবিধার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বয়সের কারণে তাঁর চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। কোমরের হাড় ক্ষয়ে গেলেও ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে এসেছেন।

প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ। নারী ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। কেউ প্রথমবার ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতায় আবেগাপ্লুত হয়েছেন, আবার কেউ আট মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। ভোট দেওয়ার পর কয়েকজনকে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নিতেও দেখা যায়।

দুই প্রধান প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ভোটগ্রহণের দিন সকালে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী একে অপরের পক্ষের নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে অভিযোগ করেন।

বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন সকাল ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। পরে তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ডাব প্রতীকের এজেন্টরা জামায়াতের এজেন্ট হয়ে গেছেন এবং জামায়াতের এজেন্টরা ডাব প্রতীকের কাগজ নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। পরে তিনি অভিযোগ করেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার পরিচয়পত্রে ছবি ছিল না। তাঁর দাবি, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রেও ছবি ছিল না বলে তিনি শুনেছেন। পরিচয়পত্রে ছবি না থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পরিচয় নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দুই প্রার্থীর এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা দিয়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা সম্ভব হবে।

১৮৫ কেন্দ্রে ভোট, ভোটার ৫ লাখের বেশি

নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন।

আসনটির তিন উপজেলায় মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ২৮৭ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ২৪৯ জন ও নারী ৩৮ জন।

উপনির্বাচন ঘিরে কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ প্রার্থী

গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তাঁরা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, মো. আবদুল আলীম নিজামী এবং হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।

তবে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির জেলা সহসভাপতি মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে মির্জা ফয়সল আমীন ও দেলাওয়ার হোসেনকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কেন হচ্ছে উপনির্বাচন

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জয়ী হয়েছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৮৩৩ ভোট।

পরবর্তী সময়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। সেই শূন্য আসনে নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। এখন ভোট গণনা শেষে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০