ঘি ব্যবহারে ত্বকের যত্ন ও ঘুম, কতটা উপকারী?
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:৪০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রান্নার পরিচিত উপাদান ঘি শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, ত্বকের যত্নেও অনেকে এটি ব্যবহার করেন। বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর ও কারিশমা কাপুরের ঘি ব্যবহারের অভ্যাস নিয়ে আলোচনা রয়েছে। কারিনা রাতে ঘুমানোর আগে পায়ের পাতায় ঘি মাখেন বলে জানিয়েছেন, আর কারিশমা ত্বকের যত্নে ও খাবারে ঘি ব্যবহার করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘি মাখলে ত্বক উজ্জ্বল হয় বা ঘুম গভীর হয়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
পর্যাপ্ত ঘুম মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম শরীরকে বিশ্রাম দেয়, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত পরিচর্যা, সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম।
ত্বকের যত্ন এবং ভালো ঘুমের প্রসঙ্গে রান্নায় ব্যবহৃত ঘি নিয়েও অনেকের আগ্রহ রয়েছে। কেউ কেউ ত্বকে ঘি মাখেন, আবার কেউ ঘুমানোর আগে পায়ের পাতায় ঘি ব্যবহার করেন। তবে এসব অভ্যাসের সম্ভাব্য উপকারিতা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা রাখা জরুরি।
ঘি কি ত্বক উজ্জ্বল করতে পারে?
ঘিতে চর্বি রয়েছে, যা ত্বকের ওপর একটি তৈলাক্ত স্তর তৈরি করতে পারে। এতে শুষ্ক ত্বক সাময়িকভাবে আর্দ্র অনুভূত হতে পারে। তবে ঘি ব্যবহার করলেই ত্বকের কালচে দাগ দূর হবে কিংবা ত্বক স্থায়ীভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
শুষ্ক ত্বকের যত্নে ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
তৈলাক্ত ত্বক ও ব্রণের ক্ষেত্রে সতর্কতা
ঘি বেশ তৈলাক্ত হওয়ায় সবার ত্বকে এটি সমানভাবে মানানসই নাও হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ, তাঁদের মুখে ঘি ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত। ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমে থাকলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের সমস্যা বাড়তে পারে।
তবে ঘি সবার রোমকূপ বন্ধ করে দেয় বা প্রত্যেকের ব্রণ বাড়ায়—এমন সিদ্ধান্তও ঠিক নয়। ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। নতুন কোনো উপাদান মুখে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি স্থানে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পায়ের পাতায় ঘি মাখলে কি গভীর ঘুম হয়?
কিছু মানুষের কাছে ঘুমানোর আগে পায়ের পাতায় তেল বা ঘি দিয়ে মালিশ করা আরামদায়ক অভ্যাস। হালকা মালিশ শরীরকে শিথিল করতে এবং মানসিক চাপ কমানোর অনুভূতি দিতে পারে। ফলে কারও কারও ঘুমের প্রস্তুতিতে এটি সহায়ক হতে পারে।
তবে শুধু ঘি দিয়ে পায়ের পাতা মালিশ করলে ঘুম গভীর হয় বা অনিদ্রা দূর হয়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ভালো ঘুমের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে শোয়া ও ঘুম থেকে ওঠা, ঘুমানোর আগে মুঠোফোনের ব্যবহার কমানো এবং রাতে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলার মতো অভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
খাবারে ঘি কতটা উপকারী?
ঘি খাবারের স্বাদ বাড়ায় এবং এতে চর্বি ও কিছু চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন থাকতে পারে। তবে এতে সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণও বেশি। তাই নিয়মিত খাবারে ঘি ব্যবহার করলে পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত সম্পৃক্ত চর্বি গ্রহণ রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে।
সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত ঘি খাওয়া যেতে পারে। তবে ত্বক উজ্জ্বল করা বা ঘুম ভালো করার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ঘি খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
ভালো ঘুম ও সুস্থ ত্বকের জন্য করণীয়
ত্বক ও ঘুমের যত্নে কয়েকটি অভ্যাস অনুসরণ করা যেতে পারে—
প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করা।
সুষম খাবার খাওয়া এবং ফলমূল ও শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখা।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা।
তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকা।
ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
ঘি রান্নার একটি পরিচিত উপাদান এবং শুষ্ক ত্বকে এটি সাময়িক আর্দ্রতা দিতে পারে। তবে ত্বক উজ্জ্বল করা কিংবা গভীর ঘুম নিশ্চিত করার কোনো প্রমাণিত উপায় এটি নয়। তাই ব্যক্তিগত অভ্যাসের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক তথ্য ও নিজের শারীরিক অবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়াই ভালো।
১০৮ বার পড়া হয়েছে