পর্দায় ফিরেও হারানো জনপ্রিয়তা ফিরে পাননি যেসব তারকা
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
একসময় তাঁদের নামেই সিনেমা হলে দর্শকের ভিড় জমত, টেলিভিশনের পর্দায় তাঁদের অভিনয় দেখতে অপেক্ষায় থাকতেন দর্শকেরা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, ব্যক্তিগত জীবন, দীর্ঘ বিরতি কিংবা কাজের ধারাবাহিকতা হারানোর কারণে অনেক তারকাই আগের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেননি। ঢাকাই সিনেমার রোজিনা, শাবনূর, পপি ও পূর্ণিমা থেকে শুরু করে টেলিভিশন নাটকের অপি করিম, রিচি সোলায়মান, ঈশিতা, সুমাইয়া শিমু, সারিকা ও শখ—বিভিন্ন সময়ে পর্দায় ফিরলেও তাঁদের সবার ক্যারিয়ার আগের অবস্থানে ফেরেনি।
একসময় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে তারকাদের জনপ্রিয়তাই ছিল দর্শক টানার অন্যতম বড় উপায়। সিনেমার পোস্টারে প্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীর ছবি দেখেই অনেকে প্রেক্ষাগৃহে যেতেন। আবার নাটকের পরিচিত মুখদের অভিনয় দেখতে টেলিভিশনের সামনে বসে থাকতেন দর্শকেরা। তবে সময়ের সঙ্গে বিনোদনজগতে এসেছে নতুন মুখ, বদলেছে দর্শকের রুচি ও বিনোদন গ্রহণের মাধ্যম। ফলে একসময় তুমুল জনপ্রিয় থাকা অনেক তারকাই দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে এসে আগের অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি।
ঢাকাই সিনেমা ও টেলিভিশনের এমন বেশ কয়েকজন তারকা রয়েছেন, যাঁদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে দর্শকের আগ্রহ থাকলেও আগের সাফল্য আর ফিরে আসেনি।
রোজিনা: দীর্ঘ বিরতির পর পরিচালনায় ফেরা
ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা রোজিনার অভিনয়জীবনের শুরু সত্তরের দশকের শেষদিকে, এফ কবীর পরিচালিত ‘রাজমহল’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও।
একসময় অভিনয় থেকে সরে গিয়ে প্রবাসজীবন বেছে নেন রোজিনা। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৩ সালে ‘ফিরে দেখা’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে ফেরেন তিনি। সিনেমাটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার দায়িত্বও পালন করেন। তবে এই প্রত্যাবর্তন তাঁকে আগের সাফল্যের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে পারেনি। বর্তমানে বিভিন্ন রিয়েলিটি শো, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, ফ্যাশন শো ও ফটোশুটে দেখা যায় তাঁকে।
শাবনূর: অপেক্ষায় ভক্তরা, প্রত্যাবর্তন অধরা
রোমান্টিক ও পারিবারিক ঘরানার সিনেমায় শাবনূরের জনপ্রিয়তা ছিল ব্যাপক। ১৯৯৩ সালে ‘চাঁদনী রাতে’ সিনেমার মাধ্যমে তাঁর অভিষেক হয়। প্রথম সিনেমাটি ব্যবসায়িক সাফল্য না পেলেও পরের বছর সালমান শাহের সঙ্গে জুটি বেঁধে দর্শকের কাছে বিপুল জনপ্রিয়তা পান তিনি।
ক্যারিয়ারের সফল সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান শাবনূর। বর্তমানে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৮ সালে ‘পাগল মানুষ’ সিনেমার মাধ্যমে পর্দায় ফেরেন তিনি। তবে সিনেমাটি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ২০২৪ সালে ‘রঙ্গনা’ সিনেমার মাধ্যমে ফেরার ঘোষণা এলেও ছবিটির কাজ শেষ হয়নি। ফলে ভক্তদের অপেক্ষা থাকলেও বড় পর্দায় তাঁর নিয়মিত প্রত্যাবর্তন এখনো বাস্তব হয়ে ওঠেনি।
পপি: অসমাপ্ত সিনেমা, অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তন
একসময় ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন ছিলেন সাদিকা পারভীন পপি। বিভিন্ন কারণে চলচ্চিত্রে অনিয়মিত হয়ে পড়ার পর কয়েকটি সিনেমায় কাজ করে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে করোনাভাইরাস মহামারির সময় সেই প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়। এরপর দীর্ঘদিন তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ্যে এসে বিয়ে ও সন্তান থাকার কথা জানান পপি। বর্তমানে তাঁর অভিনীত ‘ভালোবাসার প্রজাপতি’ ও ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’ সিনেমা দুটি অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পপি নিজেও আর চলচ্চিত্রে ফিরবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে তাঁর অভিনয়ে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
পূর্ণিমা: নিয়মিত নন, পর্দায়ও সীমিত উপস্থিতি
নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে ঢাকাই সিনেমায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেন পূর্ণিমা। ১৯৯৮ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। অল্প বয়সেই সৌন্দর্য ও সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের নজর কাড়েন।
পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিগত জীবন ও সংসার সামলাতে গিয়ে চলচ্চিত্রে অনিয়মিত হয়ে পড়েন পূর্ণিমা। ২০১৯ সালে ‘গাঙচিল’ সিনেমার মাধ্যমে ফেরার কথা থাকলেও ছবিটি মুক্তি পায়নি। তাঁর অভিনীত ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘আহারে জীবন’ মুক্তি পায় ২০২২ সালে। তবে ছবিটি প্রত্যাশিত ব্যবসায়িক সাফল্য পায়নি। বর্তমানে বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে দেখা গেলেও চলচ্চিত্রে তাঁর উপস্থিতি সীমিত।
অপি করিম: প্রশংসা থাকলেও আগের উন্মাদনা নেই
টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ অপি করিম শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে বিটিভির ‘সবুজ গ্রাম’ নাটকে নায়িকা হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর পথচলা শুরু হয়। নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি এবং পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
ক্যারিয়ারে কয়েকবার বিরতি নিয়ে আবারও পর্দায় ফিরেছেন অপি করিম। তবে প্রতিবারই দর্শকের আগ্রহ থাকলেও শুরুর দিকের জনপ্রিয়তা পুরোপুরি ফিরে পাননি। এখনো মাঝেমধ্যে অভিনয়ে দেখা যায় তাঁকে।
মাহফুজ আহমেদ: নাটকে পরিচিতি, চলচ্চিত্রে মিশ্র অভিজ্ঞতা
টেলিভিশন নাটকে দীর্ঘদিন ধরে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান ধরে রেখেছেন মাহফুজ আহমেদ। নাটকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জনের পর চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। এ মাধ্যমে নাটকের মতো সাফল্য না পেলেও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
একসময় দীর্ঘ বিরতিতে ছিলেন এই অভিনেতা। পরে ‘প্রহেলিকা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় ফেরেন। তবে প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি। পরবর্তী সময়ে ওটিটি মাধ্যমে কাজ করার পাশাপাশি সম্প্রতি ‘মাগো তোমার জন্য’ ধারাবাহিক নাটক পরিচালনা করেছেন তিনি।
রিচি সোলায়মান: অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণে আগ্রহ
একসময় ছোট পর্দার নিয়মিত মুখ ছিলেন রিচি সোলায়মান। ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে বিয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি এবং সেখানে প্রায় দুই বছর অবস্থান করেন। পরে দেশে ফিরে আবার অভিনয় শুরু করলেও আগের জনপ্রিয়তা আর ফিরে পাননি।
বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণের কাজেও যুক্ত হয়েছেন রিচি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এলে তাঁকে মাঝেমধ্যে অভিনয় ও নির্মাণে দেখা যায়। তবে টেলিভিশন নাটকে আগের মতো নিয়মিত উপস্থিতি নেই তাঁর।
ঈশিতা: প্রশংসিত প্রত্যাবর্তন, কিন্তু নিয়মিত নন
নাটকের পরিচিত অভিনেত্রী রুমানা রশীদ ঈশিতা ব্যক্তিগত জীবন ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে ২০১৪ সাল থেকে টানা চার বছর অভিনয় ও গণমাধ্যম থেকে দূরে ছিলেন। ২০১৮ সালের এপ্রিলে নির্মাতা রেদওয়ান রনির ‘পাতা ঝরার দিন’ নাটকের মাধ্যমে আবার পর্দায় ফেরেন তিনি। এতে কলকাতার অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে অভিনয় করে প্রশংসা পান।
তবে প্রশংসিত প্রত্যাবর্তনের পরও আগের মতো ধারাবাহিকভাবে অভিনয়জীবন এগিয়ে নিতে পারেননি ঈশিতা। ফলে তাঁর পর্দায় উপস্থিতি এখনো সীমিত।
সুমাইয়া শিমু: ফেরার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি
একসময় টেলিভিশন নাটকের শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রীদের একজন ছিলেন সুমাইয়া শিমু। অভিনয়ে ব্যস্ত থাকার সময় ব্যক্তিগত কারণে বিরতি নেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজের একটি নতুন ধারাবাহিক নাটকের মাধ্যমে ফেরার কথা থাকলেও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
ফলে দর্শকেরা তাঁকে নিয়মিত পর্দায় দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না। আগের মতো জনপ্রিয়তা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সারিকা: ফিরে আসার চেষ্টা অব্যাহত
মডেলিং ও অভিনয়ে একসময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন সারিকা সাবরিন। ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়ে প্রেম, বিয়ে ও পারিবারিক নানা জটিলতা তাঁর কাজের সূচিতে প্রভাব ফেলে। শুটিংয়ের সময়সূচি নিয়ে সমস্যার কারণে কয়েকবার পরিচালক ও প্রযোজকদের অসন্তোষের মুখেও পড়েন তিনি।
বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে বারবার অভিনয়ে ফিরেছেন সারিকা। বর্তমানে নিয়মিত কাজ করার চেষ্টা করছেন। তবে আগের জনপ্রিয়তা এখনো ফিরে পাননি। এমন একটি কাজের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি, যা তাঁকে আবারও দর্শকের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারে।
শখ: বিরতি পেরিয়ে আবারও অভিনয়ে
সারিকার সমসাময়িক জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী আনিকা কবির শখও ব্যক্তিগত জীবনের কারণে অভিনয়ে দীর্ঘ বিরতিতে ছিলেন। একসময় অভিনেতা নিলয়কে বিয়ে করার পর তাঁর ক্যারিয়ারের গতি কমে যায়। সেই দাম্পত্য সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পরে আবার বিয়ে ও সন্তান জন্মের কারণে অভিনয়ে নিয়মিত হতে পারেননি তিনি।
দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফিরেছেন শখ। তবে আগের মতো জনপ্রিয়তা ফিরে পাওয়া সহজ হয়নি। তা সত্ত্বেও অভিনয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছেন এই অভিনেত্রী।
বিন্দু: ওয়েব ফিল্মে ফিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি
রিয়েলিটি শো থেকে উঠে আসা বিন্দু বিজ্ঞাপন, নাটক ও চলচ্চিত্র—তিন মাধ্যমেই কাজ করে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ২০০৭ সালে তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’ সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসিত হন। পরে ‘জাগো’ ও ‘এই তো প্রেম’ সিনেমাতেও কাজ করেন তিনি।
বিয়ের পর বিনোদনজগৎ থেকে দূরে সরে যান বিন্দু। ২০১৪ সালে বিরতি নেওয়ার পর ২০২৩ সালে ‘উনিশ২০’ ওয়েব ফিল্মের মাধ্যমে ফেরেন। এই কাজের মধ্য দিয়ে দর্শকের মধ্যে তাঁকে নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়।
প্রভা: বিরতি কাটিয়ে আবার শুটিংয়ে
মডেলিংয়ের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া সাদিয়া জাহান প্রভা একসময় বিজ্ঞাপন ও নাটকে নিয়মিত কাজ করতেন। ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বকে বিয়ে করলেও সেই দাম্পত্য সম্পর্ক স্থায়ী হয়নি। ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা ও মানসিক চাপের মধ্যে দীর্ঘ বিরতিতে চলে যান তিনি।
পরবর্তী সময়ে আবার নাটকের শুটিংয়ে নিয়মিত অংশ নিতে শুরু করেছেন প্রভা। তবে আগের মতো জনপ্রিয়তা ফিরে পাননি। তারপরও অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
বদলে গেছে সময়, বদলেছে দর্শকের রুচি
বিনোদনজগতে তারকাদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখার ক্ষেত্রে নিয়মিত কাজ, সময়ের সঙ্গে তাল মেলানো এবং দর্শকের পরিবর্তিত পছন্দের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত কারণে দীর্ঘ বিরতি কিংবা কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হলে আগের অবস্থানে ফেরা কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে প্রত্যাবর্তনের সাফল্য সব সময় শুধু জনপ্রিয়তার পুরোনো হিসাব দিয়ে নির্ধারিত হয় না। নতুন ধরনের কাজ, ভিন্ন মাধ্যমে অভিনয় এবং সময়োপযোগী চরিত্রের মাধ্যমে অনেক শিল্পী আবারও দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেন। বিন্দুর ‘উনিশ২০’ কিংবা ঈশিতার ‘পাতা ঝরার দিন’ সেই সম্ভাবনার উদাহরণ। শেষ পর্যন্ত কোনো তারকার প্রত্যাবর্তন কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করে তাঁর কাজ, দর্শকের গ্রহণযোগ্যতা ও সময়ের চাহিদার ওপর।
১১০ বার পড়া হয়েছে