সর্বশেষ

সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গায় খেজুরের রস ও গুড় তৈরির প্রস্তুতি শুরু

মুন্না রহমান
মুন্না রহমান

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:৪২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
হালকা হিমেল হাওয়া আর ভোরের কুয়াশায় চুয়াডাঙ্গায় জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। শীতকে সামনে রেখে খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেছেন জেলার গাছিরা। চার উপজেলার মাঠ ও সড়কের পাশে থাকা প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার খেজুরগাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা। চলতি মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

শীত মৌসুম ঘিরে চুয়াডাঙ্গার গ্রামাঞ্চলে শুরু হয়েছে খেজুরের রস ও গুড় তৈরির প্রস্তুতি। ঐতিহ্যবাহী এ পেশার সঙ্গে যুক্ত গাছিরা খেজুরগাছের শুকনো অংশ পরিষ্কার ও ছাঁটাই করে রস সংগ্রহের উপযোগী করে তুলছেন। আবহাওয়ায় শীতের তীব্রতা বাড়লে গাছে গাছে ঝুলবে মাটির হাঁড়ি। রাতভর সেই হাঁড়িতে জমবে মিষ্টি রস। পরে তা জ্বাল দিয়ে তৈরি হবে তরল গুড়, দানাদার গুড় ও পাটালি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর, দামুড়হুদা, আলমডাঙ্গা ও জীবননগর—এই চার উপজেলায় মাঠ ও সড়কের দুই পাশে প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার খেজুরগাছ রয়েছে। এর মধ্যে দামুড়হুদা-দর্শনা ও আলমডাঙ্গা এলাকায় গাছের সংখ্যা বেশি।

গাছিরা জানান, খেজুরগাছ থেকে ভালোভাবে রস সংগ্রহ করতে হলে নির্দিষ্ট সময়ে সঠিক নিয়মে গাছের ছাল ও শুকনো অংশ ছাঁটাই করতে হয়। সময়মতো পরিচর্যা না করলে রসের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই তাঁরা গাছ প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে রাখছেন।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি শীত মৌসুমে চুয়াডাঙ্গায় ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন খেজুরের গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমেও একই পরিমাণ গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সে সময় খেজুরের রস ও গুড়কে কেন্দ্র করে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছিল। এ বছরও গুড়ের চাহিদা ও বাজার ঘিরে ভালো ব্যবসার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

শীতের মৌসুমে খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদন গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ সময় গাছ পরিচর্যা, রস সংগ্রহ, গুড় তৈরি ও বাজারজাতকরণে অনেক মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়। একজন গাছি প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি গাছ কাটেন ও পরিচর্যা করেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাছি শীলন হোসেন বলেন, শীতের আমেজ শুরু হওয়ায় শ্রমিকসংকট এড়াতে আগেভাগেই গাছ প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছেন তাঁরা। শীত বাড়লে গাছে হাঁড়ি বাঁধার কাজ শুরু হবে। কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে গাছে গাছে হাঁড়ি পাতার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। সংগৃহীত রস থেকে তৈরি গুড় স্থানীয় হাটে বিক্রির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হবে।

খেজুরের রস থেকে মানসম্মত গুড় তৈরি করতে গাছের পরিচর্যা থেকে শুরু করে রস সংগ্রহ ও জ্বাল দেওয়ার প্রতিটি ধাপে সতর্কতা প্রয়োজন। গাছিরা বিশেষ কৌশলে গাছ ছেঁটে মাটির হাঁড়ি ঝুলিয়ে দেন। রাতভর হাঁড়িতে জমা হওয়া রস সকালে সংগ্রহ করে চুলায় জ্বাল দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় জ্বাল দেওয়ার পর রস ঘন হয়ে তৈরি হয় তরল গুড়, দানাদার গুড় ও পাটালি।

অভিজ্ঞ গাছিদের মতে, গুড়ের মান ভালো রাখতে রসের বিশুদ্ধতা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। রস সংগ্রহের পাত্র ও গুড় তৈরির সরঞ্জাম পরিষ্কার থাকলে পণ্যের গুণগত মান ধরে রাখা সহজ হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, চুয়াডাঙ্গার খেজুরের গুড়ের সুনাম ও ঐতিহ্য দেশজুড়ে রয়েছে। গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ গুড়ের চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর জেলার গুড় দেশের অন্য জেলাগুলোতেও সরবরাহ করা হয়।

নূরুল ইসলাম আরও জানান, শীতের শুরুতেই গাছিরা গাছ প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। জেলার প্রায় ২০ শতাংশ খেজুরগাছ ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং পর্যাপ্ত শীত পড়লে চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেজুরগাছে রসের প্রবাহ বাড়বে বলে প্রত্যাশা গাছিদের। তাই গাছ পরিচর্যার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত শীতের অপেক্ষায় রয়েছেন চুয়াডাঙ্গার খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত মানুষ।

১১০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০