সাজেকে সেনাবহর ও পুলিশের ওপর গুলি: আহত ৬, শনিবার ২ জেলায় অবরোধ
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৫৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের ৬ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পর্যটন কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনার জেরে আগামী শনিবার রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা অবরোধের ডাক দিয়েছে ইউপিডিএফ সমর্থিত সংগঠন।
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সীমান্তবর্তী সাজেক এলাকায় আঞ্চলিক দুই সশস্ত্র গোষ্ঠী সন্তু লারমা সমর্থিত জেএসএস এবং চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১১ অক্টোবর থেকে স্থানীয় দুটি সংগঠনের ব্যানারে সাজেক সড়কে চলা অস্থিতিশীলতা নিরসনে চেষ্টা চালানো হয়। তবে পূজার ছুটির পর নতুন করে উত্তাপ দেখা দেয়।
বৃহস্পতিবার বাঘাইহাটের উজো বাজার এলাকায় পর্যটকবাহী যানবাহন উদ্ধার করতে গেলে সন্ত্রাসীরা বহর লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে ও জননিরাপত্তা বিধানে পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সংঘর্ষ চলাকালে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ ইট-পাথর নিক্ষেপ করলে চারজন সেনাসদস্য এবং দুজন পুলিশ সদস্য আঘাতপ্রাপ্ত হন।
রাঙামাটির পুলিশ প্রধান মুহাম্মদ আব্দুর রকিব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে আটকে পড়া তিন হাজার ভ্রমণপিপাসুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ইউপিডিএফ এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এ দিকে লাগাতার কর্মসূচির কারণে সাজেকের শতভাগ রিসোর্ট বুকিং বাতিল হয়ে পর্যটন খাতে প্রতিদিন কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
উদ্ভুত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শনিবার দুই পার্বত্য জেলায় সড়ক ও নৌপথ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। ফটিকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উষাতন চাকমার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে উক্ত কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
১১৩ বার পড়া হয়েছে