সর্বশেষ

মতামত

বাংলার ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার বাংলাদেশ

ফারূক মাহমূূদ
ফারূক মাহমূূদ

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:২৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলার প্রাচীন জনপদ থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ—দীর্ঘ ঐতিহাসিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক সামাজিক পরিচয়। এই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার ধারণ করে ন্যায়বিচার, সামাজিক সাম্য, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বহুত্বের ভিত্তিতে মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ফারূক মাহমূদ।
ফারূক মাহমূূদ

বাংলার প্রাচীন জনপদ, পাল ও সেন যুগ, স্বাধীন বাংলার সুলতানি শাসন, মুঘল সুবা বাংলা এবং নবাবি আমল; দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় এই ভূখণ্ডের স্বতন্ত্র ভাষা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং অসাম্প্রদায়িক সামাজিক পরিচয় বিকশিত হয়েছে।

নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন (১৭৫৭), ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ও ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ, স্বদেশী আন্দোলন এবং ১৯৪৭ সালের দেশভাগ; বাঙালীর আত্মপরিচয়ের গতিপথে গভীর পরিবর্তন এনেছে।
এছাড়াও ঈসাখাঁ, বারো ভূইয়া, হযরত শাহজালালের সুফিবাদ ও সংগ্রামের পাশাপাশি হাজী শরীয়তুল্লাহর সংস্কার আন্দোলনও উপমহাদেশের বৃহত্তর ঔপনিবেশিকতাবিরোধী ও সামাজিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

পাকিস্তানি শাসনামলের বৈষম্য, ভাষা আন্দোলন (১৯৫২), স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রাম, ছয় দফার বাস্তবায়ন(১৯৬৬), উত্তাল গণ-অভ্যুত্থান (১৯৬৯) এবং রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ বিশ্বমানচিত্রে স্থায়ী ঠিকানা লাভ করে।

এইসব গৌরবময় সংগ্রাম বাঙালির উত্তরাধিকার হিসেবে বাংলাদেশের সামাজিক জীবন ব্যবস্থায় গভীরভাবে প্রথিত। তাই রাষ্ট্রকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন করতে হলে আমাদের নৈতিক অঙ্গীকার জাগরুক রাখতেই হবে।

ঔপনিবেশবাদের বিরূদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এমন এক রাষ্ট্র গড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যেখানে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে, ধনী-দরিদ্র বৈষম্য দূর হবে, বাস্তুহারা মানুষও মানবিক মর্যাদা পাবে, ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদার হবে, সামাজিক সাম্যের সুফল পাবে সকলে এবং সাংস্কৃতিক বহুত্ব সমুন্নত থাকবে সবার জন্য ।

কারণ, রাষ্ট্রের প্রকৃত মহত্ত্ব তার অতীতের সীমারেখা অব্দি বিস্তারে প্রকাশ পায় না। ঐতিহাসিক সীমান্তের টানাপোড়েনে আধিপত্যের নখর দৃশ্যমান হয়। তাতে কোথাও জাতীয়তাবাদের জোয়ার উঠলেও বৃহত্তর পরিসরে অবিশ্বাসের দেয়াল ওঠে এবং বিভেদ স্থায়ী রূপ নেয়।
তাই ভৌগলিক সীমারেখা বজায় রেখে, দেশীয় সংস্কৃতির আবহে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মানবিক সভ্যতা বিনির্মাণে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে।

১৩০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০