সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দু'জন আসলে কারা? নাগরিকত্ব ও বিচারের তথ্য প্রকাশের দাবি
সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করা দুই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয়, নাগরিকত্ব ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের পরিচয় শনাক্তে সরকারি নথি যাচাই, পরিবারের সন্ধান এবং বিচারসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট মনজুর এহসান চৌধুরী।
সৌদি আরবে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করা দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তাঁদের পূর্ণ পরিচয়, নাগরিকত্ব এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের প্রশ্ন সামনে এসেছে। বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা বাংলাদেশ মিশনকে জানানো হয়নি। ঢাকা সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে।
কিন্তু দুজনকে কোন নথির ভিত্তিতে বাংলাদেশি বলা হয়েছে? তাঁদের পাসপোর্ট, স্থায়ী ঠিকানা ও পারিবারিক পরিচয় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ যাচাই করেছে কি? নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয়ে থাকলে সেই তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন? এখন প্রয়োজন এসব প্রশ্নের স্পষ্ট, নথিভিত্তিক উত্তর।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় দুটি নাম থাকলেও পরিচয় শনাক্ত করার মতো বিস্তারিত তথ্য ছিল না। পাসপোর্ট, আকামা ও নাগরিকত্বের প্রয়োজনীয় তথ্যও পাওয়া যায়নি। এই ঘাটতি দূর না হলে শুধু নামের ভিত্তিতে তাঁদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন।
এখানে সৌদিতে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্টসংক্রান্ত পুরোনো জটিলতাও প্রাসঙ্গিক। বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গাদের নামে ইস্যু করা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়নের জন্য রিয়াদ ঢাকাকে তাগিদ দিয়েছে। প্রায় ৬৯ হাজার পাসপোর্ট নবায়নের বিষয়েও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, পাসপোর্ট দেওয়া মানেই তাঁদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া নয়।
এই পটভূমিতে প্রশ্ন উঠছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের নাগরিকত্ব কি বাংলাদেশের নিজস্ব রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে, নাকি সৌদি নথিতে থাকা পরিচয়ই ব্যবহার করা হচ্ছে? তাঁদের সঙ্গে পাসপোর্টসংক্রান্ত ওই জটিলতার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও নথি যাচাইয়ের বিষয়।
সামাজিক মাধ্যমে পরিবারের শনাক্তযোগ্য প্রতিক্রিয়া ও সুস্পষ্ট স্থানীয় পরিচয় খুঁজে না পাওয়ার পর্যবেক্ষণ থেকেও পরিচয় প্রকাশের দাবি উঠছে। তবে পরিবারের শোকের দৃশ্যের চেয়ে জরুরি হলো সরকারি রেকর্ড, স্বজনদের পরিচয় এবং তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের নির্ভরযোগ্য বিবরণ সামনে আনা।
বিচারের ক্ষেত্রেও একইভাবে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী ছিল, কী প্রমাণ গ্রহণ করা হয়েছে, আইনজীবী ও দোভাষীর সুযোগ ছিল কি না এবং বাংলাদেশ মিশনকে কখন কী জানানো হয়েছিল—সৌদি কর্তৃপক্ষ সেই বিবরণ প্রকাশ করুক।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছেও প্রত্যাশা স্পষ্ট: নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অগ্রগতি, পরিবারের সন্ধান, কনস্যুলার যোগাযোগ এবং মরদেহের বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য জনসমক্ষে জানানো হোক। পরিচয় ও বিচার সম্পর্কে তথ্যের শূন্যতা যত দীর্ঘ হবে, প্রশ্ন তত বাড়বে। তার উত্তর অনুমান নয়—প্রকাশযোগ্য নথি ও জবাবদিহি।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
১৯৫ বার পড়া হয়েছে