এসএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করলে ১৫ দিনের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:১৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। পুনঃপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে এসব শিক্ষার্থীকে সাধারণ শিক্ষার পরিবর্তে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় থাকবে, নাকি কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় যাবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মিলনায়তনে ৪৯তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটেছে। এই অবক্ষয় রোধে একটি প্রজন্ম থেকেই কাজ শুরু করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি ঠেকানো যায়। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী এবার চতুর্থ শ্রেণি থেকে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, নৈতিকতা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের সঙ্গে শেখার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
ঝরে পড়া ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা পাস করেছে, তারা তো করেছেই। তবে যারা ঝরে পড়েছে এবং পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের বিষয়টি আগে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এসব শিক্ষার্থীকে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্বায়ন, প্রযুক্তির অগ্রগতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা।
এসএসসি পরীক্ষার নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সর্বোচ্চ দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আবার পরীক্ষা নেওয়া হবে। বছরের পর বছর অকৃতকার্য হওয়ার ধারাবাহিকতা টেনে নেওয়া হবে না।
তিনি জানান, ১৫ দিনের মধ্যে নেওয়া পুনঃপরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করবে শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় থাকবে, নাকি অন্য ধারায় যাবে। পুনঃপরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে না পারলে তাদের কারিগরি বা ভোকেশনাল শিক্ষায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. সরদার মোং কেরামত আলী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনউদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, নায়েমের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক এবং বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক।
ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষামন্ত্রী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা খান একাডেমি আয়োজিত ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
১৩৭ বার পড়া হয়েছে