বেনাপোল বন্দরে অনিয়মের অভিযোগ, সনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, পরিবহন খাতের তহবিলের হিসাব না দেওয়া, শুল্ক ফাঁকি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আতিকুজ্জামান সনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বেনাপোল পৌর বিএনপির একাংশ। একই সঙ্গে বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটিতে তাঁর পদ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং দল থেকে বহিষ্কারের দাবিও জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, পরিবহন খাতের তহবিল ব্যবস্থাপনায় অস্বচ্ছতা ও শুল্ক ফাঁকিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে আতিকুজ্জামান সনির বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটিতে তাঁর পদ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বেনাপোল পৌর বিএনপির একাংশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বেনাপোল পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল আহাদ। এ সময় পৌর বিএনপির সহসভাপতি নাসিমুল গনি বল্টুসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বেনাপোল পৌর টার্মিনালে সরকারি নির্ধারিত প্রবেশ ফি ৫০ টাকা হলেও ট্রাকপ্রতি ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নাইট গার্ড, নৈশপ্রহরী, যানজট নিরসন এবং ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির কল্যাণ তহবিলের নামে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের মাধ্যমে ১১০ টাকা এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের নামে ৩৯০ টাকা আদায়ের অভিযোগও করেন তাঁরা। এসব অর্থের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ এবং ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা।
তাঁদের অভিযোগ, ভারতীয় ট্রাকচালকদের কাছ থেকে ৫০ টাকার রশিদ দিয়ে ১৮০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য খরচের নামে আরও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। নিরাপত্তাকর্মী ও নাইট গার্ড নিয়োগের কথা বলে বেকার যুবকদের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তাঁরা। এসব অভিযোগের পক্ষে রশিদ ও ভারতীয় ট্রাকচালকদের ভিডিও সাক্ষাৎকার রয়েছে বলে দাবি করেন সংবাদ সম্মেলনের আয়োজকেরা।
ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বক্তারা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না দিয়ে সভাপতি পদ ধরে রেখেছেন সনি। সমিতির তহবিলের আয়-ব্যয়ের হিসাব সাধারণ সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয় না। বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির নামে সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে সনির মালিকানাধীন কাব্য এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধেও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ তোলা হয়। বক্তারা বলেন, বেনাপোল বন্দরের ২৬ নম্বর শেডে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির একটি পণ্যচালান আটকে রয়েছে। এ ছাড়া কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করেছে বলে দাবি করেন তাঁরা। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বেনাপোলের রেললাইন নির্মাণকাজে মাটি ও বালু ভরাট, পৌর ট্রাক টার্মিনাল, পৌর টোল, বাজার ও পশুহাটকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ে অনিয়ম হয়েছে। বন্দর থেকে পণ্য পাচার এবং ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগও তোলেন তাঁরা।
আতিকুজ্জামান সনির রাজনৈতিক পরিচয় ও বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটিতে তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়েও আপত্তি জানান নেতাকর্মীরা।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল আহাদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে সনিকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় দেখা যায়নি। ৫ আগস্টের পর তিনি দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। পৌর বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটিতে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে নয়টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা যশোর জেলা বিএনপির নেতাদের কাছে লিখিত আপত্তি জানান।
আব্দুল আহাদ আরও বলেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত দীর্ঘদিন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁকে জনবিচ্ছিন্ন নেতা আখ্যা দিয়ে সনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে সনির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান আব্দুল আহাদ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তারা দাবি করেন, বেনাপোল বন্দরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে ভারতীয় ট্রাকচালকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এ কারণে কিছু চালক বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনে অনীহা প্রকাশ করছেন বলে তাঁদের দাবি। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দুই দেশের বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আতিকুজ্জামান সনির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটিতে তাঁর পদ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিও তোলেন নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আতিকুজ্জামান সনির ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেননি।
১২২ বার পড়া হয়েছে