মোংলায় বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর, নারীসহ আহত ৬
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাগেরহাটের মোংলায় পূর্বে দাবি করা চাঁদা না দেওয়া এবং পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারীসহ একই পরিবারের ছয়জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম দত্তেরমেঠ টাটিবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার মোংলা থানায় পাল্টাপাল্টি দুটি অভিযোগ দায়ের করেছে উভয় পক্ষ।
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীসহ একই পরিবারের ছয়জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত ব্যক্তিরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম দত্তেরমেঠ টাটিবুনিয়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনায় মোংলা থানায় উভয় পক্ষ পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করে।
আহত ব্যক্তিদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মিঠাখালীর পশ্চিম দত্তেরমেঠ টাটিবুনিয়া এলাকায় বসতভিটাসহ প্রায় চার একর পৈতৃক সম্পত্তি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ঘের করে মাছ চাষের পাশাপাশি ভোগদখল করে আসছিলেন ভুক্তভোগীরা। গত পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে সেখানে স্থায়ী বাড়িঘর নির্মাণ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করছেন তাঁরা। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় কামাল ইজারাদার, ফজলু শেখ, আসাদ মল্লিক, হারুন শেখ, মনোজ কুমার মণ্ডল এবং কামালের দুই ছেলে বোরহান ও জুলফিকারের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল মোঃ আল মামুন শেখের বাড়িতে হামলা চালায়। তাঁদের হাতে দেশীয় রামদা, লাঠিসোঁটা ও লোহার রড ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মোঃ আল মামুন শেখ মিঠাখালি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। মামুন মিঠাখালি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা বাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় বাড়ির মূল্যবান মালামাল ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় বাধা দিতে গেলে আল মামুন শেখ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে নারীসহ ছয়জনকে গুরুতর আহত করা হয়।
আহত ব্যক্তিরা হলেন সালমা বেগম (৪০), আল মামুন শেখ (৩৫), চঞ্চল মণ্ডল (৩৬), তন্নি বেগম (২৩), নাজমা (৪২) ও মিজু (২৩)।
আহত ব্যক্তিদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
খবর পেয়ে মোংলা থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে মোংলা থানায় উভয় পক্ষ পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম জানিয়েছেন, জমির মালিকানা ও হামলার ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৭৩ বার পড়া হয়েছে