সর্বশেষ

সারাদেশ

চুয়েট উপাচার্যকে উদ্ধার, ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্ত শিক্ষার্থীদের

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম

বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১:২৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে প্রশাসনিক ভবন থেকে তাঁকে বের করে আনা হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি। এ সময় উপাচার্যকে আর চুয়েট ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্ত দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ থাকার পর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের উদ্যোগে তাঁকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে আনা হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি।

তবে ক্যাম্পাস ছাড়ার আগে উপাচার্যকে একটি শর্ত দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের নিচে তাঁকে নামিয়ে আনার পর মাইক হাতে এক শিক্ষার্থী ঘোষণা দেন, ‘ভিসিকে আমরা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দিচ্ছি একটি মাত্র শর্তে, সেটি হলো তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না।’

এ সময় ওই শিক্ষার্থীর পাশে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। পরে উপাচার্যকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় শিক্ষার্থীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা গণমাধ্যমকে বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে তাঁদের দাবি-দাওয়া শোনা হয়েছে। তাঁদের দাবিগুলো সরকারকে জানানো হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। এরপর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের তালা খুলে দেন। পুলিশি নিরাপত্তায় উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমসহ ভেতরে থাকা সবাইকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নেওয়া হয়।

উপাচার্যকে কোথায় নেওয়া হবে, জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, আপাতত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হবে।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা ২০ মিনিটে চুয়েট ক্যাম্পাসে যান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তাঁরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সরকারকে জানানোর আশ্বাস দেন তাঁরা। পাশাপাশি উপাচার্য অসুস্থবোধ করছেন জানিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেন। পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের তালা খুলে দেন।

সোমবার দুপুর ১২টার পর থেকে চুয়েটের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন। শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়ার পাশাপাশি ভবনের পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে অধ্যাপক আবু সাদাতকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। একই দাবিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালন করছেন কর্মবিরতি। এসব কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

আন্দোলনের কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পরও ক্যাম্পাসে যেতে পারছিলেন না নতুন উপাচার্য। তবে সোমবার ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করেন তিনি।

নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে আসার খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁর দপ্তরের সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা উপাচার্যকে কার্যালয় ছাড়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে দুপুর ১২টার দিকে আবারও উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের তালা দেওয়ার কারণে উপাচার্যসহ ১০ থেকে ১১ জন ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদও ছিলেন। অন্যরা বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী।

১২৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০