বরিশালে মাদকের আসরে অভিযান, পুলিশ সদস্যসহ আটক ৪
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামে কথিত স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মিরাজুল ইসলামের টিনশেড বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। বৃহস্পতিবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, পাঁচগাঁও গ্রামের মিরাজুল ইসলামের বাসাটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীরা। এ সময় বাসায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে তাঁদের কেউ ডিএনসির আহ্বানে সাড়া না দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মিরাজুল ইসলাম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেন, নাহিদ হাসান (২৬) এবং ফাতেমা আক্তার নুরতাজ (৩০)।
ডিএনসি সূত্র জানায়, অভিযানে মাদকের বড় কোনো চালান পাওয়া যায়নি। তবে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডিএনসির পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল বৃহস্পতিবার ভোরে মিরাজুলের বাসাটি ঘিরে ফেলে। ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের আত্মসমর্পণের জন্য আহ্বান জানানো হলেও তাঁরা সাড়া দেননি। একপর্যায়ে তাঁরা পালানোর চেষ্টা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সূর্যের আলো ফোটার সময় এএসআই দেলোয়ার হোসেন বাসার টিন ভেঙে লাফ দিয়ে কাদামাটিতে পড়ে যান। তাঁকে আটক করতে গেলে ডিএনসি কর্মীদের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। পরে তাঁকে আরও তিনজনের সঙ্গে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মিরাজুল ইসলামের স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো পদপদবি নেই। তবে তিনি সংগঠনটির নাম ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে জড়িত ছিলেন এবং মাদক সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের আরও দাবি, মিরাজুলের সঙ্গে বিমানবন্দর থানার এএসআই দেলোয়ার হোসেনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি প্রায়ই মিরাজুলের বাসায় রাত কাটাতেন। তাঁদের বিরুদ্ধে স্থানীয় নিরীহ লোকজনকে হয়রানিরও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানের পর এএসআই দেলোয়ার হোসেনকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মিরাজুল ইসলামসহ বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তাঁদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ডিএনসির উপপরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক নিজে এসে আটক এএসআইকে তাঁর জিম্মায় নিয়ে গেছেন। তিনি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
১১২ বার পড়া হয়েছে