'নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করলেই আইনানুগ ব্যবস্থা'
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:২৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মুন্সীগঞ্জে এলপিজি গ্যাসের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিলসহ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সমন্বয় সভায় এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও বাজার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে এই সভায় এলপিজির সরবরাহ, নির্ধারিত মূল্য এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা এবং এলপিজি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে জানানো হয়, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এক টাকাও বেশি দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি করা যাবে না। অসাধু উপায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটের চেষ্টা করলে প্রশাসন নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে। অপরাধের তীব্রতা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক শাস্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী ডিলারদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, নিজ নিজ এলাকার খুচরা বিক্রেতারা নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি করছেন কি না, তা ডিলারদেরই তদারকি করতে হবে। বাজারে সিলিন্ডারের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি ভোক্তাদের হয়রানি বন্ধে কঠোর নজরদারির আশ্বাস দেন।
সভায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কোনো ফিলিং বা রিফুয়েলিং স্টেশন থেকে অবৈধভাবে এলপিজি সিলিন্ডার রিফুয়েলিং করা যাবে না। যদি কোনো স্টেশনে এ ধরনের বিপজ্জনক ও বেআইনি কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উক্ত সমন্বয় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জুবায়ের হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলপিজি ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও সাধারণ ভোক্তারা সভায় অংশ নিয়ে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন।
১৩২ বার পড়া হয়েছে