কাণ্ড
রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের জনজীবনে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ঘটনা নিছক ঘটনা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকছে না; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণমাধ্যম ও জনআবেগের সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ায় সেগুলো পরিণত হচ্ছে ‘কাণ্ড’-এ। ছাগল-কাণ্ড, টিপ-কাণ্ডের পর হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোতে ওঠার কর্মসূচিও জন্ম দিয়েছে ব্যক্তিস্বাধীনতা, সামাজিক শালীনতা ও প্রতিবাদের নৈতিকতা নিয়ে নতুন বিতর্ক।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জনজীবনে কিছু ঘটনা কেবল ঘটনা হয়ে থাকেনি, ক্রমেই সেগুলো ‘কাণ্ড’-তে পরিণত হয়েছে। যেমন, ছাগল-কাণ্ড, টিপ-কাণ্ড।
এমন প্রতিটি ঘটনাই সামাজিক আবেগ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ায় বৃহত্তর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বংশ-পরিচয় সমৃদ্ধ এক ছাগল কান্ডে কাস্টমস কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিলাস বৈভবের চিত্র মানুষ জানতে পেরেছে।
ফার্মগেটে টিপ কান্ডের কারণে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্তও হয়েছে। সেক্ষেত্রে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, মোশারফ হোসেনসহ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী কপালে টিপ পরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে একপ্রকার সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিবাদে নেমেছিল। যা ছিলো এক ধরনের ভাঁড়ামি।
সদ্য ঘটে যাওয়া আরেক কান্ড ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকালে অ্যাথলেটিকস প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন স্নিগ্ধ রমনা পার্কে প্রশিক্ষণ শেষে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে যান। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্য তাঁর হাফ প্যান্ট পরা পোশাককে ‘অশালীন’ আখ্যা দেয়।
এই কান্ডকে পুঁজি করে কয়েকজন সুশীল হাফ প্যান্ট পরে মেট্রো ট্রেনে ওঠার কর্মসূচি পালন করে। যা অভিনেতা চঞ্চল গংদের মতোই আরেক ধরনের নৈতিকতা-বিরোধী ঘটনা। কারণ বাংলাদেশে হাফ প্যান্ট পরে গণপরিসরে চলাচল করার রেওয়াজ একেবারে নেই বললেই চলে। সেখানে এইভাবে একটি উদ্ভট কর্মসূচি আদিখ্যেতাই বটে....!!!
তবে পোশাক নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের মন্তব্যের প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোতে ওঠাকে কেউ ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু স্বাধীনতা কখনো সামাজিক দায়িত্ববোধের বিপরীতার্থক হতে পারে না। রাষ্ট্র নাগরিককে পোশাকের স্বাধীনতা দেবে। নাগরিকও জনপরিসরের মর্যাদা, শালীনতা ও সামাজিক সংবেদনশীলতার প্রতি দায়িত্বশীল থাকবে, এটাই সভ্যতার সহজ ভারসাম্য।
একইসাথে প্রতিবাদও একটি নৈতিক ভাষা। সেই ভাষা যদি প্রতিবাদের পরিবর্তে অশালীনতাকে উসকে দিয়ে তা উৎসবে পরিণত করে, তবে সেটি দাবি প্রতিষ্ঠার বদলে সামাজিক রুচির অবক্ষয়কে প্রশ্রয় দেয়।
আবার পুলিশের আচরণে অন্যায় হলে তার প্রতিকার প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই হওয়া উচিত। কিন্তু সেই প্রতিবাদ সমাজের শালীনতার সীমারেখাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা বাঞ্চণীয় নয়।
আমাদের গভীরভাবে মনে রাখা দরকার, আধুনিক রাষ্ট্রের কাজ পোশাকের দৈর্ঘ্যে মাপামাপি করা নয়।
তাই বলে এই সুযোগের ফাঁক-ফোকর গলিয়ে মানুষের বিবেক, সহনশীলতা, মর্যাদাবোধ ও দায়িত্বশীলতাকে এড়িয়ে যাওয়াও যৌক্তিক নয়।
১২১ বার পড়া হয়েছে