পোশাকের স্বাধীনতা এবং জনমানুষের প্রতি সৌজন্য বোধ
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:৩৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পোশাক ব্যক্তিস্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হলেও জনপরিসরে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পাশাপাশি সামাজিক সৌজন্য, শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কোন পোশাক কোথায় উপযুক্ত—এ সিদ্ধান্ত সব সময় আইন দিয়ে নির্ধারণ করতে হয় না; অনেক ক্ষেত্রে মানুষের বিবেক, সামাজিক বোধ ও পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীলতাই যথেষ্ট। জনপরিসরে তাই নিষেধাজ্ঞার চেয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌজন্যবোধ বাড়ানোই হতে পারে সহাবস্থানের কার্যকর পথ।
পোশাক ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রকাশ। কিন্তু জনপরিসরকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পাশাপাশি সামাজিক সৌজন্যের ক্ষেত্র হিসেবেও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি ।
অভিনেত্রী শুটিংয়ের পোশাক পরে মেট্রোতে ওঠেন না কখনোই। সাঁতারু সাঁতারের পোশাকে এবং সৈনিক যুদ্ধের পোশাকে কিংবা আইনজীবী আদালতের গাউন পরে গণপরিবহনে চলাচল করেন না। কারণ প্রত্যেক পোশাকের একটি প্রেক্ষিত, একটি পরিবেশ এবং একটি সামাজিক ভাষা আছে।
একজন অ্যাথলেট অনুশীলনের পোশাক হিসেবে হাফপ্যান্ট পরবেন, নাকি থ্রি-কোয়ার্টার; এটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু অনুশীলনক্ষেত্র আর মেট্রোস্টেশন এক জায়গা, এক পরিবেশ নয়।
মেট্রো একটি সর্বজনীন পরিসর। সেখানে পোশাকের ক্ষেত্রে আইন যতটা নয়, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বিবেক, শালীনতা, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সম্মান।
সবকিছুর জন্য আইন লিখে দিতে হয় না। সভ্য সমাজের সৌন্দর্য এখানেই। মানুষ অনেক সিদ্ধান্ত নেয় নিজের বিবেক ও সামাজিক বোধ থেকে, আইনের কেতাব খুলে নয়।
তাই মেট্রো স্টেশনের দায়িত্বরত পুলিশকে অযথা বিদ্রূপ করা ঠিক নয়। পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব পালনের এই মানবিক প্রচেষ্টাকে সম্মান করা উচিত।
একই সঙ্গে খেলোয়াড়ের প্রতিও চাই সহমর্মিতা, অপমান নয়। যদিও খেলোয়াড়কে অপমান করা হয়নি। তবুও তিনি জাতীয় খেলোয়াড় হিসেবে দম্ভের প্রকাশ ঘটিয়ে পুলিশকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেও ফেসবুকের সস্তা বাহবা কুড়াচ্ছেন।
সবশেষে বলবো পোশাকে নিষেধ না দিয়ে আমাদের সামাজিক সৌজন্যবোধ বাড়াতে হবে। বাড়াতে হবে সংবেদনশীলতা। আর জনপরিসরে থাকা অচেনা- অজানা মানুষের রুচিবোধের প্রতি সম্মান দিতে হবে। সকলেই সকলের প্রতি আরো বেশি যত্নবান হলেই সমস্যার সমাধান হবে নিমেষে।
১২৭ বার পড়া হয়েছে