কলাপাড়ায় ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে ছাত্রদল নেতাকে রাতভর নির্যাতন
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে মহিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতাকে রাতভর বর্বর নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেরই দলীয় কিছু নেতার বিরুদ্ধে এই লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা দেন ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান ফারুক। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় থাকা এই ছাত্রদল নেতা সরকারের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারুক জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মহিপুর থেকে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। অভিযুক্তদের কাছে ওয়াকিটকিও ছিল। পরে তাকে একটি মোটরসাইকেলে করে কলাপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে রাত একটা পর্যন্ত দফায় দফায় অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।
ভুক্তভোগী ফারুকের অভিযোগ, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে তার ওপর এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানাসহ ১০ থেকে ১৫ জনের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। নির্যাতনের সময় তিনি বারবার আকুতি জানালেও হামলাকারীরা কোনো দয়া দেখায়নি বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই তরুণ নেতা।
মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পরও তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
এদিকে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানা তাদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং তাদের হেয় প্রতিপন্ন করতেই এমন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়াচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগপত্র তারা হাতে পেয়েছেন। পুলিশ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে