নড়াইলে ইসলাম শেখ হত্যা: খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে উত্তাল রঘুনাথপুর
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:২৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নড়াইলের লোহাগড়ায় স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা ইসলাম শেখকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। শনিবার বিকেলে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে শত শত মানুষ অংশ নিয়ে আসামিদের শাস্তির দাবি জানান। হত্যাকাণ্ডের ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও মূল পরিকল্পনাকারীরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রতিবাদ সভায় বক্তারা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে লাহুড়িয়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইসলাম শেখ নৃশংস হামলার শিকার হন। স্থানীয় রঘুনাথপুর কবরস্থান এলাকায় আগে থেকে ওত পেতে থাকা ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি টিপু সুলতান এবং শালনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জাহানারা বেগম বাদী হয়ে ঘটনার দুই দিন পর, ১২ সেপ্টেম্বর লোহাগড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও মামলার প্রধান দুই পরিকল্পনাকারী টিপু ও কামরুজ্জামান গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উল্টো আসামিরা পলাতক থেকে বাদী পক্ষকে নানা হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার।
রঘুনাথপুর-তালতলা বাজারে আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন শালনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কাজী উজ্জ্বল, রঘুনাথপুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ এটিএম বায়েজিদ বরকতী এবং নিহতের স্ত্রী জাহানারা বেগম। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মূল আসামিদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর ও লাগাতার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
এদিকে লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে জানান, পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। ইসলাম শেখ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ১৫ জন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। বাকি পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ প্রশাসন।
১৫৬ বার পড়া হয়েছে