ভাঙছে সুরমার দুই পাড়, ভরাট হচ্ছে তলদেশ: হুমকিতে ফসলি জমি ও জনপদ
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:৫৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে সিলেটের সুরমা নদীর দুই পাড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বালু-পলিতে নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ার পাশাপাশি বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নদীভাঙন রোধে এবং সুরমার নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে দেশের অন্যতম প্রধান নদী সুরমার দুই কূলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের তোড়ে নদীর দুই পাড়ে অবিরত ভাঙন চলছে। এর ফলে প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে শত শত একর কৃষিজমি। নদীপাড়ের বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া একাধিক বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই নদীভাঙন চললেও তা প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত কোনো টেকসই বা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই ভাঙনের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়। স্রোতের প্রচণ্ড আঘাতে নদীর পাড় ধসে পড়ে জনপদ গ্রাস করছে। ভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
নদীভাঙনের সমান্তরালে সুরমার তলদেশে পলি ও বালু জমার সমস্যাও প্রকট আকার ধারণ করেছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা স্রোতের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পাথর, নুড়ি এবং বালি এসে নদীর তলদেশ ভরাট করে ফেলছে। এতে নদীটি ক্রমশ তার নাব্যতা হারাচ্ছে এবং পানি ধারণক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। ফলে বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই নদী উপচে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে সুরমা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। নদী গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামীতে এ ধরনের দুর্যোগ আরও বাড়তে পারে। তাই কেবল অস্থায়ী জোড়াতালির মেরামত না করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে নদী ড্রেজিং এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
১১২ বার পড়া হয়েছে