সিলেটে প্রবাসীর বাড়ি আত্মসাতের চেষ্টা, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ সেনপাড়া পুষ্পায়ন এলাকার একটি পারিবারিক বাড়ি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘জমজম বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা মঈনউদ্দীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী গুরুতর শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ নুরুল ইসলামের অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে ‘সদকায়ে জারিয়া’র প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িটি হস্তান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী জাহেদা ইসলাম। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে মঈনউদ্দীন চৌধুরীকে বিবাদী করে সিলেটের আদালতে দেওয়ানি মামলা করেছেন নুরুল ইসলামের পরিবার।
সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ সেনপাড়া পুষ্পায়ন এলাকার একটি কোটি টাকার পারিবারিক বাড়ি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। বাড়িটি আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘জমজম বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা মঈনউদ্দীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নুরুল ইসলামের পরিবার।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন সিলেট জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সামসুজ্জামান জামান।
যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে নুরুল ইসলামের স্ত্রী জাহেদা ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী প্রায় ২০ বছর ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতর অসুস্থ এবং অক্ষম। তাঁর ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে। পাশাপাশি তিনি স্মৃতিভ্রম, অতিরিক্ত রাগ, কথায় জড়তা এবং মাঝেমধ্যে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ার মতো জটিল মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি পড়তে বা লিখতেও পারেন না বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাহেদা ইসলামের ভাষ্য, দীর্ঘ দুই দশক ধরে নুরুল ইসলাম যুক্তরাজ্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ওয়েলফেয়ার বেনিফিটের ওপর নির্ভরশীল। ফলে তাঁর পক্ষে এককভাবে কোনো সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব ছিল না। শিবগঞ্জের পুষ্পায়ন এলাকার বাড়িটি পুরো পরিবারের সম্মিলিত পরিশ্রমে গড়ে ওঠা সম্পদ।
জাহেদা ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীর মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও ‘জমজম বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা মঈনউদ্দীন চৌধুরী যুক্তরাজ্যে তাঁদের বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি নুরুল ইসলামকে ‘সদকায়ে জারিয়া’র কথা বলে প্রভাবিত করেন। পরিবারের অজান্তে বাড়িটির সম্পূর্ণ কাগজপত্র প্রস্তুত করে কোটি টাকার সম্পদটি হস্তান্তরের পাঁয়তারা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জাহেদা ইসলামের দাবি, একজন জটিল মানসিক রোগীর পরিবারের সম্মতি ছাড়া তাঁর সম্পদ নেওয়ার চেষ্টা জালিয়াতি ও প্রতারণার শামিল।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে মঈনউদ্দীন চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদও জানিয়েছেন জাহেদা ইসলাম। তাঁর দাবি, মঈনউদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, নুরুল ইসলাম সুস্থ এবং তিনি নাকি নয় বছর ধরে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা থাকেন। জাহেদা ইসলামের ভাষ্য, এই দুটি তথ্যই সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
জাহেদা ইসলাম বলেন, মানসিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শে এবং যুক্তরাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের নিরাপত্তা বিধিমালার অংশ হিসেবে ২০২৫ সাল থেকে স্বামীর নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁরা একই বাড়িতে আলাদা থাকছেন।
মঈনউদ্দীন চৌধুরীর দেওয়া তথ্য সত্য হলে তাঁকে যুক্তরাজ্যে এসে তা প্রমাণ করার আহ্বানও জানিয়েছেন জাহেদা ইসলাম।
বিবৃতিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, মঈনউদ্দীন চৌধুরী তাঁর অসুস্থ স্বামীকে নিয়মিত প্রভাবিত করছেন। একই সঙ্গে ফেসবুক লাইভ ও ইউটিউব ভিডিওর মাধ্যমে সম্পদটি স্বেচ্ছায় দান করা হচ্ছে—এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
জাহেদা ইসলামের অভিযোগ, সন্তান ও পরিবারের অস্তিত্ব ভুলিয়ে দিয়ে একজন অসুস্থ মানুষকে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভিডিও ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বিবৃতির শেষে জাহেদা ইসলাম বলেন, দিনরাত পরিশ্রম করে সন্তানদের নিয়ে তাঁরা যে বাড়ি গড়ে তুলেছেন, তা কোনো চ্যারিটি প্রতিষ্ঠাতার ব্যক্তিগত লোভের কাছে হারিয়ে যেতে দেবেন না। স্বামী ও সন্তানদের অধিকার রক্ষায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এ বিষয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দেশবাসী ও প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতাও কামনা করেছেন তিনি।
১৩৭ বার পড়া হয়েছে