সর্বশেষ

ফিচার

মাটির হাঁড়ির স্বাদ থেকে মদের দাম ও নাইটলাইফের আভিজাত্য

মাসুদুল হাসান রনি
মাসুদুল হাসান রনি

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৫৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
​বাট্টারামুল্লার প্রধান সড়কে প্রায় দিন সকালে কিংবা রাতে হেঁটে যাওয়ার সময় চোখে পড়ে বেশ কিছু মাটির হাঁড়ি-পাতিলের দোকান। শুধু বাট্টারামুল্লাতেই নয়, কলম্বোর আরও নানা প্রান্তেও এমন দৃশ্য খুব সাধারণ। আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে এত বিকল্প উপাদান থাকতেও লঙ্কানরা কেন এখনো মাটির পাত্র ব্যবহার করে, এ প্রশ্ন মনে আসা স্বাভাবিক।
মাসুদুল হাসান রনি

​এখানে আসার পর লঙ্কানদের ঐতিহ্যবাহী ও স্থানীয় খাবারের স্বাদ আস্বাদন করতে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। প্রায় প্রতিটি রেস্তোরাঁতেই ঢোকার মুখে চোখে পড়েছে বড় বড় মাটির হাঁড়িতে থরে থরে সাজানো গরম ভাত, নানা পদের মাছ, মাংস, শাকসবজি, তরকারি আর ডাল।

​বাট্টারামুল্লা ও কোট্টের ইন্টারসেকশনের পাশে এক রেস্তোরাঁয় কয়েক বেলা খেতে গিয়েছিলাম। মাটির হাঁড়ি প্রসঙ্গে ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জেনেছি, লঙ্কান রেস্তোরাঁ ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকানগুলোতে মাটির পাত্রে খাবার পরিবেশন করা অত্যন্ত জনপ্রিয়।

​খাবার অর্ডার করার পর একজন এসে প্রথমে টেবিলে তাজা কলাপাতা বিছিয়ে দেন, এর ওপর পরিবেশন করেন ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত। আর ছোট ছোট মাটির বাটি বা মটকার মতো পাত্রে দিয়ে যান নানা পদের সুস্বাদু তরকারি।

লঙ্কানদের এই মাটির হাঁড়ি ব্যবহারের কারণ জানতে একদিন আমার চোখের ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি জানালেন, মাটির হাঁড়িতে রান্না করা তাদের বহু বছরের সংস্কৃতির অংশ। স্থানীয় সিংহলি ভাষায় মাটির হাঁড়ি-পাতিলকে এরা বলেন 'হাট্টি' (Hatti) বা 'মুট্টি' (Mutti)। এই হাট্টি বা মুট্টিতে রান্না করা খাবারের স্বাদ যেমন অনন্য ও অতুলনীয়, তেমনি নাকি স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও রয়েছে অপরিসীম উপকারিতা! ধীর আঁচে মাটির পাত্রে রান্না করলে খাবারের পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে।

​শুধু রেস্তোরাঁর ম্যানেজার কিংবা আমার চিকিৎসকের মুখেই নয়, বাস্তব জীবনেও এর প্রতিফলন দেখেছি। আমার এয়ারবিএনবির ম্যানেজার অনুঢ়াকেও দেখেছি হাট্টি বা মুট্টিতে রান্না করতে এবং কলাপাতায় খাবার খেতে।
​আধুনিকতার মাঝেও নিজেদের প্রাচীন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে এভাবে আগলে রাখার এই লঙ্কান প্রবণতা আমার মন ছুঁয়ে গেছে। আর রেস্তোরাঁয় কলাপাতায় খাবার বেড়ে খাওয়ার সেই অনন্য অভিজ্ঞতা ছিল সত্যিই দারুণ ও উপভোগ্য।

​মদের দামের বাড়াবাড়ি...

​কলম্বোর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে চোখে পড়েছে ওয়াইন স্টোর। এগুলোতে এবং বিভিন্ন শপিংমলের চেইনশপে দেখেছি, স্থানীয় লিকারের পাশাপাশি বিদেশি ওয়াইন, অ্যালকোহল বিক্রি করে থাকে। পুরো শ্রীলঙ্কা জুড়ে এই লিকার স্টোর রয়েছে, যা সরকার অনুমোদিত। শ্রীলঙ্কায় মদ বা ওয়াইন বিক্রি করার জন্য সরকারের এক্সাইজ ডিপার্টমেন্ট (Excise Department of Sri Lanka) থেকে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্স বা অনুমতিপত্র নিয়ে ব্যবসা করতে হয়। তবে যেকোনো সরকারি অনুমোদিত আউটলেট থেকে মদ কিনতে হলে ক্রেতার বয়স অবশ্যই ২১ বছর বা তার বেশি হতে হবে।
​কথা এটা না।

​রাতে কাঁচাবাজার করতে গিয়ে কিলস (Keells) চেইন শপিং শপের ওয়াইন কর্নারে গিয়ে চোখ কপালে উঠে। একটা ৭৫০ মি.লি-এর ফাইনেস্ট সিঙ্গেল মল্ট হুইস্কি গ্লেনফিডিকের (Glenfiddich) দাম পঁয়ষট্টি হাজার রুপি!

​মনে মনে রূপান্তর করে দেখি ২৮০.৫০ কানাডিয়ান ডলার দাম পড়ছে! অথচ মন্ট্রিয়েলে এক লিটার সিঙ্গেল মল্ট হুইস্কি কিনতাম ১১০ ডলারে।

এখানে ভদকা, অন্যান্য স্কচ হুইস্কির দাম আকাশচুম্বী। দাম দেখে প্রশ্ন জাগে, লঙ্কানদের মধ্যে কারা এই মদপান করে?
তাদের মাসিক ইনকাম কত?

​শনিবার রাত বলেই কৌতূহল নিয়ে ওয়াইন স্টোরের পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করি, এই মদের ক্রেতা কারা দেখার জন্য।

​আশ্চর্যের বিষয়, যাদের কিনতে দেখলাম এরা একদম তরুণ-তরুণী!
​অবাক হয়ে ভাবছি, এসব তরুণ-তরুণী যদি চাকরি করে থাকেন, তাদের মাসিক বেতন কত?
​এসব তরুণদের আয়-রোজগার কেমন জানি না, কিন্তু তাদের লাইফস্টাইল দেখে থ বনে যেতে হয়।

​যাহোক, ডাক্তারের নির্দেশে আমি মদ্যপান ছেড়েছি বহু আগে। কৌতুহল হতে খোঁজ নিচ্ছিলাম এলকোহলের দাম কেমন। লঙ্কায় মদ বিক্রয় এবং মদ্যপান বৈধ। প্রচুর বার, পাব, ক্লাব, ক্যাসিনো, অভিজাত রেস্তোরাঁ রয়েছে। দেশি-বিদেশি সবার জন্যই এসব স্থানে মুক্তভাবে অ্যালকোহল উপভোগের ব্যবস্থা রয়েছে, আর রাতে প্রচুর পর্যটকও এসব জমজমাট ভেন্যুতে ভিড় জমান।


লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।

১৪৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
ফিচার নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০