কুষ্টিয়ায় ‘ধর্ষণের’ ৪ দিন পর চিকিৎসাধীন তরুণীর মৃত্যু, সাবেক স্বামী গ্রেপ্তার
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:৩৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় কথিত অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার এক তরুণী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় নিহতের সাবেক স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ধর্ষণ নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী তরুণী তাঁর চাচার বিয়ে উপলক্ষে কেনাকাটা ও রূপচর্চার জন্য ফকিরাবাদ বাজারের একটি কসমেটিক্স ও পার্লারে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাসেল নামের এক যুবক তাঁকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যান। এ ঘটনায় তরুণীর সাবেক স্বামী আবু বক্করসহ আরও ২-৩ জনের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
অপহণের প্রায় ৪০ মিনিট পর স্থানীয়রা ওই তরুণীকে একটি বিলের পাশে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার চার দিন পর গত শুক্রবার দিবাগত রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে মেয়েটিকে সড়ক দুর্ঘটনা ও বমিজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। তবে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে নিহতের বাবা ১৭ সেপ্টেম্বর ভেড়ামারা থানায় সাবেক স্বামী আবু বক্কর ও রাসেলসহ কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে পূর্বশত্রুতার জেরে মারধরের অভিযোগ আনা হয়। তবে ঘটনার পর কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, নিহতের মা ও নানী দাবি করেছেন, মেয়েটি মৃত্যুর আগে ৩-৪ জন মিলে তাঁকে গণধর্ষণ করেছে বলে তাঁদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামি ও তরুণীর সাবেক স্বামী আবু বক্করকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
১০৯ বার পড়া হয়েছে