তোফাজ্জল হত্যা: দুই বছরেও শুরু হয়নি বিচার
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫:৩৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার দুই বছর পূর্ণ হলেও এখনো শুরু হয়নি মামলার বিচার। এ ঘটনায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাঁদের মধ্যে ৯ জন জামিনে, ২ জন কারাগারে এবং ১৭ জন পলাতক রয়েছেন।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে মারধর করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য গত ২৩ আগস্ট দিন ধার্য ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা না পড়ায় নতুন করে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
তোফাজ্জলের মামাতো বোন আসমা আক্তার তানিয়া বলেন, ‘দুই বছর হয়ে গেছে এখনো বিচার শুরু হয়নি। আমাদের তো একটা ক্ষোভ থাকতেই পারে। আমরা বিচার চাই।’
মামলার বাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, প্রতিটি ধার্য তারিখে তিনি মামলার খোঁজ নেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমরা চাই, প্রকৃত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হোক।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শেষে ২৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং আদালত তা আমলে নিয়েছেন। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এরপর আর তদন্ত কর্মকর্তার দায়-দায়িত্ব থাকে না। অভিযোগপত্রে আসামিদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানা পলাতকদের খুঁজে বের করবে।’
ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হলে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হবে। সেখানে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হবে। এরপর সাক্ষীদের হাজির করে দ্রুত বিচার শেষ করার চেষ্টা করা হবে, যাতে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পায়।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
তোফাজ্জল হত্যার পরদিন শাহবাগ থানায় মামলা করেন এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার আমানুল্লাহ। মামলাটি তদন্ত করে ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় শাহবাগ থানা। ওই অভিযোগপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীর নাম ছিল।
তবে ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নারাজি আবেদন করে। পরে গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান পিবিআইকে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।
এরপর পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর নতুন করে আরও সাতজনসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত ১০ মার্চ আদালত ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রেদোয়ানুর রহমান, রাশেদ কামাল, আবু রায়হান, মনিরুজ্জামান, আহসান উল্লাহ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ, ওয়াজিবুল আলম ও শেখ রমজান আলী রকি জামিনে রয়েছেন।
জালাল মিয়া ও সুমন মিয়া কারাগারে রয়েছেন। বাকি ১৭ আসামি পলাতক।
মামলার ২৮ আসামির মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া; আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ; ভূগোল বিভাগের আল হোসাইন সাজ্জাদ; পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ; মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া; ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ ও আশরাফ আলী মুন্সী।
১০৮ বার পড়া হয়েছে