ইউএনএসসি কাঠামোগত সংস্কারের জোর দাবি ব্রিকস নেতাদের
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) কাঠামোগত পরিবর্তনসহ বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন ব্রিকসের শীর্ষ নেতারা। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে একতরফা যুদ্ধংদেহী পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী একতরফা শুল্ক আরোপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ অনুমোদন করেছেন জোটের সদস্যদেশগুলোর নেতারা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে জানান, শীর্ষ নেতাদের আলোচনার পর যৌথভাবে এই ঘোষণা গৃহীত হয়েছে।
ঘোষণায় জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়িয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ পুনর্গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ব্রাজিল ও ভারতের মতো দেশগুলোর আরও বড় ভূমিকা পালনের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। ওই অঞ্চলে একতরফা যুদ্ধংদেহী পদক্ষেপের নিন্দা জানানো হলেও ঘোষণায় কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করে দায়ী করা হয়নি। ইরান যুদ্ধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় যৌথ ঘোষণা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এসব বিভাজন সামলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন নেতারা।
বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে ব্রিকস। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কারের দাবি জানিয়ে একটি উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত ও নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
একতরফাভাবে শুল্ক আরোপ ও তা বাড়ানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে ঘোষণায়। ব্রিকস নেতাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে বিকৃত করে এবং ডব্লিউটিওর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, বাণিজ্যে তৈরি হওয়া অস্থিতিশীলতা মোকাবিলা এবং উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর চাহিদা ও অগ্রাধিকার পূরণে ডব্লিউটিওর কার্যকারিতা বাড়াতে সদস্যদেশগুলো একসঙ্গে কাজ করবে।
এ ছাড়া মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ব্রিকস সদস্যদেশগুলোর মধ্যে নিজস্ব বা আঞ্চলিক মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তঃব্রিকস বাণিজ্য ও আর্থিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়টি সামনে এসেছে।
সমাপনী বক্তব্যে নরেন্দ্র মোদী বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এখন জরুরি। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে প্রতিনিধিত্ব ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি এবং তা পরিচালনার নীতিমালা তৈরিতেও ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নয়াদিল্লি ঘোষণাকে ব্রিকস দেশগুলোর যৌথ সংকল্পের দিকনির্দেশনা উল্লেখ করে মোদী বলেন, এখন এসব প্রস্তাব বাস্তবে রূপ দেওয়াই মূল লক্ষ্য।
১২১ বার পড়া হয়েছে