গোপালগঞ্জে স্ত্রীর দেওয়া তালাক সইতে না পেরে শ্বশুরবাড়িতে আগুন
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্ত্রীর দেওয়া তালাক মেনে নিতে না পেরে শ্বশুরবাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। উপজেলার নিজামকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে, যার জেরে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
উপজেলার নিজামকান্দি গ্রামের আহাদ আলী মোল্যার মেয়ে ইয়াসমিন খানমের সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে বিয়ে হয়েছিল একই এলাকার লাল্টু মোল্যার। বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য কলহ এবং স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে স্বামীর বিরুদ্ধে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত দেড় মাস আগে স্বামীকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান ইয়াসমিন।
অভিযোগ রয়েছে, তালাকের পর থেকেই ক্ষুব্ধ লাল্টু বিভিন্ন সময় ইয়াসমিন ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার রাতে তিনি ইয়াসমিনের বাবার বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করতে থাকেন। একপর্যায়ে বাড়ির উঠানে থাকা খড়ের স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হলেও খড়ের স্তূপটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, এর আগেও লাল্টু তাদের বসতবাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
ইয়াসমিনের বড় ভাই প্রবাসী তারিকুল ইসলাম জানান, তালাক দেওয়ার পর থেকেই তারা অনবরত প্রাণনাশের হুমকিতে ভুগছেন এবং বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত লাল্টু মোল্যা তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১১৬ বার পড়া হয়েছে