সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

ড্রোন হামলায় সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:৫১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার পাইপলাইনটির পাশাপাশি কয়েকটি পাম্প স্টেশনেও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ এই তেল অবকাঠামো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির তেল সরবরাহ ও রপ্তানি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে একাধিক ড্রোন হামলার পর সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পাইপলাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এর অবস্থা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দলগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে পাইপলাইনটি কবে আবার চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

ঘটনার সঙ্গে পরিচিত দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, পাইপলাইনের পাশে থাকা কয়েকটি পাম্প স্টেশনও হামলার শিকার হয়েছে। তাঁদের একজন জানান, প্রাথমিক বিশ্লেষণে পাম্প স্টেশনগুলোতে হামলার চিহ্ন পাওয়া গেছে।

শুক্রবারের একটি স্যাটেলাইট ছবিতে একটি পাম্প স্টেশনে আগুনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবারের আরেকটি ছবিতে অন্য একটি পাম্প স্টেশনে আগুন ও সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

তবে পাইপলাইনের মূল অংশে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হামলার দায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরাক থেকে উড়ে আসা ড্রোন দিয়ে হামলাটি চালানো হয়েছে।

পরে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, ইরাক থেকে আসা কয়েকটি ড্রোন রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোয় এই হামলা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্ববাজারে এরই মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদক সৌদি আরবের উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরান হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহনে বড় ধরনের বাধা তৈরির পর সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে পারস্য উপসাগরীয় এলাকা থেকে অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে নেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল ট্যাংকারের পরিবর্তে এই পাইপলাইন দিয়ে ইয়ানবু বন্দরের দিকে পাঠানো হচ্ছে। ফলে পাইপলাইনের কার্যক্রম দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিকল্প পথেও চাপ তৈরি হতে পারে।

লোহিত সাগর দিয়ে ইয়ানবু বন্দরে তেল পাঠানোর পথও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধারা লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করার হুমকি দিয়েছে। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির লোহিত সাগরভিত্তিক বিকল্প পথ নিয়েও নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শুধু পাম্প স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে মেরামতের কাজ তুলনামূলক দ্রুত শেষ করা সম্ভব হতে পারে। তবে পাইপলাইনের মূল অংশে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকলে তা মেরামতে বেশি সময় লাগতে পারে।

এর মধ্যে সৌদি আরব গত মাসে ওপেককে জানিয়েছে, দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোয় হামলা বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

১১০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০