সর্বশেষ

জাতীয়

প্রত্নতাত্ত্বিক মসজিদে এমপি আমীর হামজার ‘কার্যকরী কমিটি’: ক্ষমতার উৎস কোথায়?

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:০৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। এ ধরনের স্থাপনার সংরক্ষণ, সংস্কার, ব্যবহারবিধি ও ব্যবস্থাপনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনসাপেক্ষ হওয়ার কথা। অথচ কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজার সংসদীয় প্যাডে স্বাক্ষরিত একটি নথিতে মসজিদটির ১৫ সদস্যের “কার্যকরী কমিটি” ঘোষণা করা হয়েছে।

নথিটিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন বা ওয়াকফ প্রশাসনের কোনো লিখিত অনুমোদন, স্মারক নম্বর, গেজেট, সরকারি আদেশ কিংবা প্রযোজ্য আইনের ধারার উল্লেখ নেই। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—কোন আইন বা কোন প্রশাসনিক ক্ষমতায় একজন সংসদ সদস্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি মসজিদের জন্য কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করলেন?

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তাঁর একটি বক্তব্যে এমপি মো. আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, তিনি “কুষ্টিয়ার প্রধানমন্ত্রী” এবং কুষ্টিয়ায় যা কিছু হবে, তা তিনি করবেন। বক্তব্যটি তাঁর নিজস্ব কি না, পুরো বক্তব্যের প্রেক্ষাপট কী এবং সেটি তিনি এখনও বহাল রাখেন কি না—এসব বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট ব্যাখ্যা জরুরি। কারণ একজন সংসদ সদস্যের সাংবিধানিক ভূমিকা আইন প্রণয়ন, জনগণের প্রতিনিধিত্ব এবং সরকারের কর্মকাণ্ডে জবাবদিহি নিশ্চিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত; একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার ব্যবস্থাপনা এককভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সঙ্গে নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘোষিত কমিটিতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর—সংশ্লিষ্ট বা সমর্থক ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবং এতে মসজিদকেন্দ্রিক বিরোধ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগটি সত্য হলে এটি শুধু একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনের প্রশ্ন নয়; বরং সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদকে রাজনৈতিক প্রভাববলয়ে নেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। এ বিষয়ে কমিটির প্রত্যেক সদস্যের রাজনৈতিক পরিচয়, সদস্য নির্বাচনের মানদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না—সবকিছুর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ কোনো ব্যক্তি, দল বা নির্বাচনী এলাকার জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক সম্পদ। সেখানে ধর্মীয় কার্যক্রমে স্থানীয় সহযোগিতা লাগলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, প্রশাসন, ইমাম-মুসল্লি, স্থানীয় জনগণ ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ওয়াকফ প্রশাসনের সঙ্গে স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে আইনসম্মত সমন্বয় কাঠামো হতে পারে। কিন্তু সংসদীয় প্যাডে একতরফা “কার্যকরী কমিটি” ঘোষণা করে তার প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ আছে কি না—সেটির জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসন এবং ওয়াকফ প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন:
* ঝাউদিয়া শাহী মসজিদের এই কমিটি কি কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত?
* এমপি কর্তৃক ঘোষিত এই কমিটির আইনগত অবস্থান কী?
* কমিটির অর্থ সংগ্রহ, দানবাক্স, সংস্কার, নির্মাণ, জমি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা স্থাপনার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আছে কি?
* প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া কমিটির কোনো কার্যক্রম কি সংরক্ষণ আইন বা বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে?
* মসজিদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধ এড়াতে সরকার কি আইনসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর-অনুমোদিত ব্যবস্থা নেবে?

১১৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০