বর্ণিল আয়োজনে এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে বাংলা বিভাগের অ্যালামনাই ও নবীন বরণ
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫:২১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলা ভাষা শুধু কথার বাহন নয়, বাঙালির আত্মপরিচয়েরও অনিবার্য ঠিকানা। সেই ভাষার শেকড়ের সন্ধান, সাহিত্য-সংস্কৃতির বহুমাত্রিক রূপ আর প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের সেতুবন্ধনের এক অনন্য আয়োজন হয়ে উঠেছিল এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বাংলা বিভাগের অ্যালামনাই, নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আশুলিয়া নিজস্ব ক্যাম্পাসের আয়েশা মেমোরিয়াল হলে বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিকতা, সাহিত্য-সংস্কৃতির নানা পরিবেশনা এবং আবেগঘন মুহূর্তের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় বাংলা বিভাগের অ্যালামনাই ২০২৬। একই আয়োজনে নতুনদের বরণ করে নেওয়া হয় আপন করে, আর বিদায় জানানো হয় প্রিয় শিক্ষার্থীদের—যাদের পদচিহ্ন রয়ে যাবে বিভাগের স্মৃতির পাতায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক।
গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, প্রফেসর ড. এ. এস. এম. ইকবাল হুসাইন এবং অ্যালামনাই অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর হানিফ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রিটা আশরাফ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ঘোষণা করা হয় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বাংলা বিভাগের অ্যালামনাই কমিটি। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রনজক রিজভী, সহসভাপতি শাহীন আলম, সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আহমেদ রিপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক কুলসুমা আক্তার ও মাহমুদুল হাসান।
এছাড়া রোকেয়া খাতুন কোষাধ্যক্ষ, তানিয়া আক্তার প্রচার সম্পাদক এবং জামিলুর রহমান সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। কমিটির সদস্যরা হলেন হোসাইন আহমেদ, এম. এ. হাবিব পলাশ ও সাদ্দাম হোসেন রুবেল।
নতুন এই কমিটির মাধ্যমে বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও দৃঢ় করা এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অ্যালামনাইদের সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অ্যালামনাইদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন নবনির্বাচিত সভাপতি রনজক রিজভী। পরে অতিথিরাও বক্তব্য রাখেন। বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রিটা আশরাফ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, অ্যালামনাই কার্যক্রম এবং নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
এ পর্বে অ্যালামনাই সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা ক্রেস্ট। প্রাক্তনদের হাতে যখন ক্রেস্ট উঠছিল, তখন যেন বর্তমানের সঙ্গে অতীতের এক অদৃশ্য সেতু আরও দৃঢ় হয়ে উঠছিল।
মধ্যাহ্ন বিরতির পর শুরু হয় নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান। আর এই পর্বেই যেন বাংলা বিভাগের আয়োজনটি হয়ে ওঠে আরও বর্ণিল, আরও প্রাণবন্ত।
নৃত্য, গান, কবিতা ও অভিনয়ের নানা পরিবেশনায় শিক্ষার্থীরা তুলে ধরেন বাঙালির হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বহুরূপ। চর্যাপদের প্রাচীন সুর থেকে শুরু করে লোকজ সংস্কৃতি, বাঙালির জীবন ও মাটির গন্ধ—সবকিছুই উঠে আসে নানা পরিবেশনায়।
কখনও গান, কখনও নৃত্য, কখনও কবিতার ছন্দে মঞ্চ হয়ে ওঠে বাংলার মানুষের চিরচেনা উঠোন। অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক ভাষায় পল্লীকবির কবিতা আবৃত্তিও ছিল বিশেষ আকর্ষণ। আঞ্চলিক ভাষার সেই সহজ-সরল উচ্চারণে যেন বাংলার মাটির নিজস্ব গন্ধ এসে মিশে যায় অনুষ্ঠানের আবহে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক তাজুল ইসলাম। কখনও তিনি আবির্ভূত হন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর বেশে, কখনও হয়ে ওঠেন বাউল, কখনও ফোক গানের শিল্পী, কখনও রক গায়ক।
শুধু তাই নয়, সুর, কণ্ঠ, অঙ্গভঙ্গি ও অভিনয়ের বৈচিত্র্যে তিনি তুলে ধরেন চরমোনাইয়ের ওয়াজ মাহফিল, ওয়াজের পরিবেশনা এবং হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষের পরিবেশনার স্বতন্ত্র ভঙ্গিও। একই কবিতা ও কথাকে ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আঙ্গিকে উপস্থাপন করে তিনি দর্শকদের যেমন আনন্দ দিয়েছেন, তেমনি ভাবিয়েছেনও।
একটি কবিতা কীভাবে বদলে যেতে পারে পরিবেশক, সুর, উচ্চারণ ও উপস্থাপনার ভঙ্গি বদলে গেলে—তাজুল ইসলামের এই নান্দনিক পরিবেশনা যেন তারই জীবন্ত উদাহরণ হয়ে ওঠে। মুহূর্তে মুহূর্তে বদলে যায় মঞ্চের রং, অথচ অটুট থাকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির মূল সুর।
অনুষ্ঠানের পুরো আয়োজনেই ছিল গতানুগতিকতার বাইরে যাওয়ার প্রয়াস। নবীন বরণ মানেই কেবল ফুল দিয়ে বরণ, বিদায় মানেই কেবল আবেগঘন বক্তব্য—এমন চেনা ছকের বাইরে গিয়ে বাংলা বিভাগ আয়োজনটিকে সাজিয়েছে সাহিত্য, সংস্কৃতি, অভিনয় ও সৃজনশীলতার বহুমাত্রিক সমন্বয়ে।
ফলে পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই ছিল বৈচিত্র্য। ছিল না একঘেয়েমি। কখনও হাসি, কখনও আবেগ, কখনও বিস্ময়, কখনও বা শেকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার অনুভূতি—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের এক মিলনমেলা।
অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রিটা আশরাফ। আয়োজন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক তাজুল ইসলাম, প্রভাষক নিয়াম ঠাকুর ও প্রভাষক সিনথিয়া জাহান বিথুন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রভাষক তাজুল ইসলাম ও প্রভাষক সিনথিয়া জাহান বিথুন।
সবশেষে সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী এই জমকালো আয়োজন। গান থেমে যায়, মঞ্চের আলো নিভে আসে; কিন্তু থেকে যায় কিছু মুখ, কিছু স্মৃতি, কিছু উচ্চারণ। বাংলা বিভাগের এই আয়োজন যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়—ভাষা কেবল পাঠ্যবিষয় নয়; ভাষা মানুষকে তার শেকড়ের কাছে ফিরিয়ে নেয়, প্রজন্মকে প্রজন্মের সঙ্গে যুক্ত করে।
‘বাংলা এমন একটি বিভাগ, যেখানে তোমরা মরে গিয়েও বেঁচে থাকতে পারবে’ : অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক।
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বাংলা বিভাগের অ্যালামনাই, নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নানা স্মৃতিচারণ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক। এসময় তিনি বলেন, মাতৃভাষা বাংলা। এই বাংলাকে আমি ভালোবাসি। আর সেই ভালোবাসা থেকেই এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের যাত্রার শুরু থেকেই বাংলা বিভাগকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি।
আমি যখন বাংলাদেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করি, তখন দেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনগত ভিত্তিই তৈরি হয়নি। আমি ১৯৮৮ সাল থেকে এ বিষয়ে চেষ্টা করেছি। পরে ১৯৯২ সালে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ফাইল যখন তৈরি করছি, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার অনেক সহকর্মী আমাকে বলেছিলেন, ‘আপনার মাথা কি খারাপ হয়েছে? আপনি কি পাগল হয়েছেন?’
আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কেন?’
তারা বললেন, ‘আপনি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় করতে চান, আবার সেখানে বাংলা বিভাগও রাখতে চান! এই দুটো কি একসঙ্গে যায়?’
আমি বললাম, ‘কেন যাবে না?’
তখন তারা বলেছিলেন, ‘বাংলা বিভাগে তো তারাই পড়ে, যারা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় না। বাংলা পড়বে গরিব মানুষ।’
আমি তাদের সঙ্গে একমত হইনি। আমি বাংলা বিভাগকে কখনো সেভাবে দেখিনি। আমি মনে করি, বাংলায় তারাই পড়বে, যাদের যোগ্যতা আছে, যাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি আছে, যারা নিজেদের চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতাকে ধরে রাখার চেষ্টা করে, যাদের সাহস আছে নিজের স্বপ্নকে অনুসরণ করার।
আমি বলেছিলাম—বাংলা হলো সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিভাগ।
আমি যদি পাগল হই, পাগলই হব। আপনারা আমাকে পাগল বলতে পারেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম, বাংলা বিভাগ ছাড়া এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ হবে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন থেকেই এখানে বাংলা বিভাগ আছে এবং থাকবে।
আজ আমি আনন্দিত যে এই বিভাগে অধ্যাপক ড. রিতা আশরাফের মতো শিক্ষক আছেন। এখান থেকে সাহিত্যচর্চা হচ্ছে, সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সাহিত্যচর্চার যে ঐতিহ্য রয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশেরও একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি হয়েছে।
তোমরা যারা নতুন এসেছো, তোমাদের সবাইকে আবারও স্বাগত জানাই—সেই বাংলায়, যে বাংলা মানুষকে তার সৃষ্টির মধ্য দিয়ে মৃত্যুর পরও বাঁচিয়ে রাখে।
অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক বলেন, এই পৃথিবী আসলে আমাদের নয়। এই পৃথিবী সেই মহান স্রষ্টার, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন।
আমি একবার নয়াদিল্লিতে গিয়েছিলাম। সেখানে মানুষের তৈরি বড় বড় স্থাপনা ও কীর্তি দেখেছি। এমন একটি স্থাপনা আছে, যেখানে কেউ কথা বললে সেই শব্দ প্রতিফলিত ও প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। অনেকে সেখানে গিয়ে প্রেমের কথা বলে, কবিতা আবৃত্তি করে, নানা কথা বলে।
আমি ভাবলাম—আমি এখানে কী বলব?
শেষ পর্যন্ত আমি উচ্চস্বরে বললাম—‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’
কারণ, মানুষ যত বড় স্থাপনাই তৈরি করুক, যত বড় সাম্রাজ্যই গড়ে তুলুক, একদিন তাকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে।
যারা বিশাল বিশাল ভবন তৈরি করেছেন, তারা একসময় সেই ভবন ছেড়ে চলে গেছেন। যারা নিজেদের নামে সাম্রাজ্য তৈরি করেছেন, তারাও একদিন চলে যাবেন।
আমরা দেখেছি, বাংলাদেশের অনেক ধনী ও ক্ষমতাবান মানুষ হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ তৈরি করেছেন। কিন্তু একদিন তাদেরও চলে যেতে হবে। কেউ এই পৃথিবীতে চিরদিন থাকতে পারবে না। কেউ তার সম্পদ সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবে না।
তাহলে মানুষ বেঁচে থাকে কীভাবে?
মানুষ বেঁচে থাকে তার সৃষ্টির মধ্যে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সৃষ্টির মধ্যে বেঁচে আছেন। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতা, গান ও দর্শনের মধ্যে বেঁচে আছেন। তাঁদের শারীরিক মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু তাঁরা আমাদের কাছে আজও জীবন্ত।
কিন্তু যে ব্যক্তি হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক ছিলেন, মৃত্যুর পর তাঁর সম্পদের কথা হয়তো মানুষ কিছুদিন মনে রাখবে; কিন্তু তিনি যদি মানুষের জন্য কোনো স্থায়ী সৃষ্টি রেখে না যান, তাহলে একসময় তাঁকে আর কেউ স্মরণ করবে না।
এই জায়গাটিই তোমাদের বুঝতে হবে।
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে অনেক বিভাগ রয়েছে। কিন্তু বাংলা বিভাগও রয়েছে। আর বাংলা এমন একটি বিভাগ, যেখানে তোমরা মরে গিয়েও বেঁচে থাকতে পারবে।
এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা পাঠ করা হয়, নজরুলকে স্মরণ করা হয়, সাহিত্য নিয়ে আলোচনা হয়, মানুষের চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতার বিকাশ ঘটে।
তোমরা যদি লিখতে পারো, সৃষ্টি করতে পারো, তাহলে তোমাদেরও একদিন মানুষ স্মরণ করবে।
ড. সাদেক বলেন, তোমাদের লিখতে হবে, সৃষ্টি করতে হবে। আমি দেখেছি, এই বাংলা বিভাগ থেকে অনেকে পড়াশোনা শেষ করে বের হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে কবি তৈরি হয়েছে। কবি জমশেদ ওয়াজেদ আমাদের বাংলা বিভাগের ছাত্র। তিনি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত একজন কবি।
এ রকম আরও অনেকেই সাহিত্যচর্চা করেছেন।
কিন্তু আমি আজ যারা পড়াশোনা করছো, তাদের বলতে চাই—তোমাদের লিখতে হবে। তোমাদের সৃষ্টি করতে হবে।
যারা এখান থেকে চলে গেছো, তোমাদেরও বলছি—লিখতে হবে, সৃষ্টি করতে হবে।
সৃষ্টির আনন্দে উল্লাস করতে হবে। সৃষ্টির আনন্দে নাচতে হবে, উড়তে হবে।
কারণ, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগের মর্যাদা শুধু পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে তৈরি হয় না। সেই বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা পৃথিবীকে কী দিয়েছে, কী সৃষ্টি করেছে, কতটা চিন্তা করেছে—তার ওপরও সেই বিভাগের মর্যাদা নির্ভর করে।
তোমরা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে ধারণ করো। বাংলা ভাষাকে ভালোবাসো। বাংলা ভাষায় লিখো। বাংলা ভাষায় চিন্তা করো। প্রয়োজনে ইংরেজিতেও লিখো, বিশ্বের মানুষের কাছে তোমার চিন্তা ও সৃষ্টি পৌঁছে দাও।
অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক বলেন, জীবনের হাইওয়েতে তোমরা উঠে গেছো। তোমাদের সঙ্গে আমি একটি সহজ উদাহরণ শেয়ার করতে চাই।
আমার বাড়ি নরসিংদী। সেখান থেকে ঢাকায় আসতে হলে গ্রামের রাস্তা পেরিয়ে, বিভিন্ন সড়ক ধরে একসময় হাইওয়েতে উঠতে হয়।
তোমরাও ঠিক তেমনই জীবনের একটি হাইওয়েতে উঠে গেছো।
এ কথাটি খুব ভালো করে মনে রেখো—তোমরা জীবনের হাইওয়েতে উঠে গেছো।
এখন তোমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তোমরা কোথায় যাবে?
তুমি কি গরুর গাড়িতে চড়ে আধা কিলোমিটার গিয়ে থেমে যাবে?
রিকশায় চড়ে এক কিলোমিটার গিয়ে থেমে যাবে?
নাকি হাইওয়ে ধরে অনেক দূরে যাবে?
তোমাদের সামনে পথ খোলা।
তোমরা যেখানে যেতে চাও, সেখানে যেতে পারবে।
তোমাদের স্বপ্ন যত বড় হবে, তোমাদের পথও তত বড় হবে। তোমাদের কেউ বাধা দিয়ে আটকে রাখতে পারবে না—যদি তোমরা নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো, পরিশ্রম করো এবং সৃষ্টি করার সাহস রাখো।
তাই যারা নতুন এসেছো, তোমাদের আবারও স্বাগত জানাই।
তোমরা এমন একটি ভাষা ও সাহিত্যকে ধারণ করছো, যে ভাষা আমাদের পরিচয়, আমাদের ইতিহাস, আমাদের সংস্কৃতি এবং আমাদের আত্মার সঙ্গে যুক্ত।
বাংলাকে ধারণ করো। জ্ঞানকে ধারণ করো। সৃষ্টি করো।
মনে রেখো—সম্পদ মানুষকে কিছুদিন পরিচিত করতে পারে, কিন্তু সৃষ্টি মানুষকে মৃত্যুর পরও বাঁচিয়ে রাখে।
তোমরা এমন কিছু সৃষ্টি করো, যাতে তোমরা মরে গেলেও তোমাদের সৃষ্টি বেঁচে থাকে, মানুষ তোমাদের স্মরণ করে এবং তোমাদের কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখায়।
এই হোক তোমাদের প্রত্যয়। এই হোক বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে তোমাদের অঙ্গীকার।
অধ্যাপক সাদেক বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানে আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বিশেষ করে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের দেখে, তাদের অর্জন ও সাফল্যের কথা শুনে আমি গর্বিত ও আনন্দিত।
আমি আজ তোমাদের সঙ্গে খুব বেশি আনুষ্ঠানিক কথা বলতে চাই না। আমি চাই, তোমাদের সঙ্গে একজন বড় ভাইয়ের মতো কিছু কথা বলতে। কারণ তোমরা যারা আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছো, তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ।
ব্যর্থতাকে ভয় পেও না। তোমরা হয়তো আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মার কথা শুনেছো। তিনি তাঁর জীবনের ব্যর্থতার গল্প বলতে গিয়ে একবার বলেছিলেন—জীবনে তিনি অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছেন।
এমনকি চীনে যখন প্রথম কেএফসি আসে, তখন সেখানে চাকরির জন্যও তিনি আবেদন করেছিলেন। ২৫ জন আবেদন করেছিল, ২৪ জনের চাকরি হয়েছিল—শুধু তাঁর চাকরিটা হয়নি।
কিন্তু তিনি সেই ব্যর্থতাকে নিজের জীবনের শেষ বলে মনে করেননি।
বরং তিনি বলেছেন—“Failure is the key to success.”
অর্থাৎ, ব্যর্থতা সফলতার চাবিকাঠি হতে পারে।
জীবনে ব্যর্থতা আসবে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে থেমে গেলে চলবে না। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কোথায় ভুল হয়েছে, কেন ভুল হয়েছে—সেটা বুঝতে হবে। তারপর আবার চেষ্টা করতে হবে।
তোমরা মনে রাখবে—ব্যর্থ হওয়া অপরাধ নয়; ব্যর্থতার পর চেষ্টা না করাই বড় ব্যর্থতা।
ড. সাদেক বলেন, তোমরা আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে দাঁড়িয়েছো। আমি তোমাদের একটা বিষয় ভাবতে বলব।
মনে করো, তোমরা একটি হাইওয়েতে উঠে গেছো। এখন প্রশ্ন হলো—তোমরা কোথায় যাবে?
তোমরা যদি গন্তব্য ঠিক করো, পথ ঠিক করো এবং সেই অনুযায়ী এগিয়ে যাও, তাহলে ইনশাআল্লাহ তোমরা তোমাদের কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারবে।
তোমাদের সামনে এখন অনেক সময় আছে। কিন্তু এই সময়টা অসীম নয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন—
“মানুষ যা চেষ্টা করে, তা-ই তার জন্য।”
এই কথার মধ্যে জীবনের জন্য অনেক বড় শিক্ষা রয়েছে।
তোমরা চেষ্টা করবে। পরিশ্রম করবে। সাধনা করবে। নিজের লক্ষ্য ঠিক করবে। তাহলে আল্লাহর রহমতে তোমরা অনেক দূর যেতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, সময়কে কখনো অবহেলা করো না। আমি তোমাদের একটি খুব সহজ উদাহরণ দিতে চাই।
ফ্রিজ থেকে একটি আইসক্রিম বের করে রাখলে তুমি সেটি খাও বা না খাও—একসময় সেটি গলে যাবে। তুমি চাইলে সময়টাকে থামিয়ে রাখতে পারবে না।
ঠিক তেমনি তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর, চার বছর বা যত বছরই থাকো—সময় কিন্তু তোমাদের জন্য অপেক্ষা করবে না।
তোমরা যদি হেলাফেলা করে সময় কাটাও, সময় চলে যাবে। কিন্তু সেই সময় আর ফিরে আসবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেম করার সময় আছে, আড্ডা দেওয়ার সময় আছে, আনন্দ করার সময় আছে—আমি এগুলোর বিরুদ্ধে নই। মানুষ আনন্দ করবে, বন্ধুত্ব করবে, একে অপরের সঙ্গে মিশবে—এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে—একটি মিনিটও অকারণে নষ্ট করা যাবে না।
তোমাদের প্রধান কাজ হলো শেখা, পড়াশোনা করা এবং নিজেকে তৈরি করা।
তোমরা শুধু বইয়ের পোকা হয়ে থাকবে—আমি সেটাও বলছি না। তোমরা আনন্দ করবে। কিন্তু সবচেয়ে বড় আনন্দ হবে কিছু অর্জন করতে পারার আনন্দ, ভালো কিছু করতে পারার আনন্দ, নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারার আনন্দ।
এই Achievement Motivation—অর্জনের আকাঙ্ক্ষা—তোমাদের মধ্যে থাকতে হবে।
আজ থেকেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবো। তোমরা আজ থেকেই চিন্তা করো—জীবনে কতদূর যেতে চাও।
আজ থেকেই লেখালেখি শুরু করো। পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীল কাজ করো। নিজের চিন্তা প্রকাশ করতে শেখো। সমাজ, দেশ ও মানুষের জন্য কিছু করার মানসিকতা তৈরি করো।
একজন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শুধু বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পড়বে—এমন নয়। সে লেখক হতে পারে, গবেষক হতে পারে, সাংবাদিক হতে পারে, শিক্ষক হতে পারে, উদ্যোক্তা হতে পারে, প্রশাসক হতে পারে, সমাজের নেতৃত্ব দিতে পারে।
তোমাদের সামনে সম্ভাবনার দরজা অনেক।
কিন্তু সেই দরজা দিয়ে তোমরা কতদূর যাবে—সেটা নির্ভর করবে তোমাদের চেষ্টা, সাধনা ও সততার ওপর।
ডিগ্রির চেয়েও বড় পরিচয়—ভালো মানুষ। আমি তোমাদের আরেকটি কথা বিশেষভাবে বলতে চাই।
জীবনে শুধু টাকা-পয়সা, ডিগ্রি কিংবা পদ-পদবি অর্জন করলেই মানুষ বড় হয় না।
আমি দেখেছি—হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক মানুষ পৃথিবীতে এসেছেন, রাজপ্রাসাদ করেছেন, বিপুল সম্পদ রেখে গেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে অনেকের নাম মানুষ ভুলে গেছে।
অন্যদিকে আমরা আজও স্মরণ করি কাজী নজরুল ইসলামকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
কারণ তাঁরা শুধু সম্পদ রেখে যাননি; তাঁরা সৃষ্টি করে গেছেন। মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
তোমরা যে বাংলা বিভাগে পড়ছো, তোমরা সেই সৃষ্টিশীলতার পথেই আছো।
তাই আমি তোমাদের বলব—জীবনে শুধু প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করো না, অর্থবহ হওয়ার চেষ্টা করো।
ডিগ্রি থাকবে, টাকা থাকবে, পদ থাকবে—কিন্তু সবকিছুর আগে ভালো মানুষ হতে হবে।
আমি আবারও বলছি— ভালো মানুষ হবে।
কারণ শিক্ষা, ডিগ্রি, অর্থ—সবকিছুর চেয়েও মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো সে কেমন মানুষ।
আর যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখো, তারা মনে রাখবে—শুধু এই পৃথিবীতে নয়, আমাদের পরকালেও সাফল্যের হিসাব আছে। সেখানে আমাদের সম্পদ নয়, আমাদের কর্ম, চরিত্র ও আমলই গুরুত্বপূর্ণ।
নজরুল ও রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করলেই হবে না আমরা নজরুলকে স্মরণ করি, রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করি। কিন্তু শুধু তাঁদের স্মরণ করলেই হবে না।
প্রশ্ন হলো—তোমরা কী সৃষ্টি করে যাবে?
তোমাদের কাজ কী হবে? তোমাদের অবদান কী হবে? ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তোমাদের কী কারণে স্মরণ করবে?
এই প্রশ্নগুলো তোমাদের এখন থেকেই নিজেদের করতে হবে।
তোমরা আজ যে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আছো, সেই সিঁড়ি তোমাদের ওপরে ওঠার সুযোগ দিচ্ছে।
এখন তোমরা কত ওপরে উঠবে—সেটা তোমাদের ওপর নির্ভর করছে।
অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক বলেন, অ্যালামনাইদের সঙ্গে সম্পর্ক কখনো শেষ হয় না। এখন আমি আমাদের সম্মানিত অ্যালামনাইদের কিছু বলতে চাই।
আমি নিজেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেছি এবং এখনও সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইয়ের সঙ্গে যুক্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা যে ব্যাচে পড়তাম, সেখানে আমার সহপাঠীদের একজন আজ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, আর আমিও আল্লাহর রহমতে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করেছি।
জীবনের পথ আমাদের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক কখনো শেষ হয় না।
তাই আমি আমাদের অ্যালামনাইদের বলব—
We should be connected.
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তোমরা এখান থেকে পাস করে চলে যাওনি। তোমাদের বিদায় হয়নি।
তোমরা যেখানে থাকো না কেন, তোমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই সন্তান।
বিশ্ববিদ্যালয়ও চায় তোমরা ফিরে আসো, কথা বলো, পরামর্শ দাও, তোমাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ভূমিকা রাখো।
তিনি বলেন, বাংলা বিভাগকে সেন্টার অব এক্সিলেন্স করতে হবে। আমি চাই, আমাদের বাংলা বিভাগ বাংলাদেশের মধ্যে একটি Centre of Excellence হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।
এমন একটি সময় আসুক, যখন বাংলাদেশের কোথাও বাংলা বিভাগের কথা উঠলেই মানুষ বলবে—এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বাংলা বিভাগ।
এটা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের বিষয় হবে না; তোমাদের প্রত্যেকের জন্যও গর্বের বিষয় হবে।
এজন্য বর্তমান শিক্ষার্থী এবং অ্যালামনাই—দুই পক্ষকেই ভূমিকা রাখতে হবে।
অ্যালামনাই কমিটি হয়েছে—আমি সেটি দেখেছি। অত্যন্ত সুন্দর একটি উদ্যোগ।
আমি চাই, এই কমিটি শুধু কাগজে-কলমে থাকবে না; তাদের নিয়মিত কার্যক্রম থাকবে।
তারা বসবে, আলোচনা করবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে এবং বাংলা বিভাগের উন্নয়নে কাজ করবে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের সঙ্গে বসতে পারলে অত্যন্ত আনন্দিত হব। আমি চাই, আমরা একসঙ্গে চিন্তা করি—বাংলা বিভাগকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়।
আমি চাই, একদিন এশিয়ান ইউনিভার্সিটির অন্য বিভাগের মানুষ বলবে— “বাংলা বিভাগ থেকে যারা বেরিয়েছে, তারাই তো সত্যিকারের সফল মানুষ।”
সম্প্রতি আমি জানতে পেরেছি, আমাদের বাংলা বিভাগের অনেক সাবেক শিক্ষার্থী উদ্যোক্তা হয়েছেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, সৃজনশীল কাজ করছেন। এটি দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত হয়েছি।
তাদের জন্য আরেকবার সবাইকে করতালি দিতে চাই।
তোমরা আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছো, এখান থেকেই তোমাদের ভবিষ্যৎ তৈরি হবে।
একটি সেমিস্টার অবহেলা করলে হয়তো মনে হবে—কিছুই হয়নি। কিন্তু মনে রেখো, একটি অবহেলিত সেমিস্টার কখনো কখনো পুরো জীবনের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।
তাই কোনো দিন, কোনো সেমিস্টার অকারণে নষ্ট করো না।
সময়কে কাজে লাগাও।
পড়াশোনা করো।
লেখালেখি করো।
সৃষ্টি করো।
ব্যর্থতাকে ভয় পেয়ো না।
আবার চেষ্টা করো।
নিজের লক্ষ্য ঠিক করো।
এবং সবচেয়ে বড় কথা—ভালো মানুষ হও।
আমি আশা করি এবং দোয়া করি—তোমরা প্রত্যেকে জীবনে অনেক দূর যাবে।
তোমাদের সাফল্য শুধু তোমাদের পরিবারের গর্ব হবে না; তোমাদের সাফল্য এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের গর্ব হবে, বাংলা বিভাগের গর্ব হবে এবং আমাদের দেশের গর্ব হবে।
তোমাদের সবার মঙ্গল হোক—এপারে এবং ওপারে।
১৫৮ বার পড়া হয়েছে