খাজা ফয়েজ উদ্দিন (রহ.) মসজিদে ঈদে মিলাদুন্নবীর মাহফিল
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:৩৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
১২৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী খাজা ফয়েজ উদ্দিন (রহ.) মসজিদ কমপ্লেক্সে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৯ আগস্টের এ আয়োজনে দেশবরেণ্য আলেম-ওলামা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে খাজা ফয়েজ উদ্দিন (রহ.) মসজিদ কমপ্লেক্সে ধর্মীয় আলোচনা, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। অনাড়ম্বর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ মাহফিলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, চরিত্র, মানবতার প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মসজিদের সাজ্জাদানশীন ও মুতাওয়াল্লি, খাজা ফয়েজ উদ্দিন (রহ.)-এর দৌহিত্র, দাই-ইলাল্লাহ ও বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন হযরত মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ ইসমাইল দা.বা.। তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে নবীজির (সা.) আদর্শ অনুসরণ এবং তাঁর শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় উপস্থিত মুসল্লিরা ধর্মীয় আবেগ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেন।
স্থানীয় ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন তথ্যসূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, মসজিদটিতে ইংরেজি ১৯০০ সাল, বাংলা ১৩০৭ সাল এবং হিজরি ১৩১৭ সালে প্রথম জুমার নামাজ শুরু হয়। এর আগে থেকেই এখানে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ১৮৮০ সালের দিকে মসজিদটি পাঞ্জেগানা মসজিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রচলিত পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী, বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর বংশধর শাহ সুলতান সৈয়দ বোগদাদী (রহ.)-এর এজাজত ও নির্দেশক্রমে মসজিদটির প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় কার্যক্রমের সূচনা হয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে মসজিদটি দীর্ঘ সময় ধরে নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এবারের মাহফিলও সেই দীর্ঘ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়।
মাহফিলকে ঘিরে মসজিদ কমপ্লেক্সে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নবীপ্রেম, ধর্মীয় আলোচনা ও সম্মিলিত মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
১৪১ বার পড়া হয়েছে