গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ধৈর্য ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সাময়িক উল্লেখ করে দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং একটি এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার কারণে বর্তমান সংকট তীব্র হয়েছে। সংকট সমাধানে সরকার কাজ করছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের সমাপনী দিনে তিনি বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বর্তমান সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হচ্ছে। অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হলেও দেশের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সংসদের উভয় পক্ষ কার্যকর আলোচনা করেছে। জাতীয় সংসদকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং দুই বছর আগের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের স্বপ্ন পূরণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের বিভিন্ন খাতে সংকট ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিল্প, শিক্ষা ও ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রভাব ছিল। এসব সমস্যা উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার কোনো অজুহাত না দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করছে।
সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তেল ও গ্যাস আমদানিতে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি। এর পাশাপাশি দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটি বৈদ্যুতিক শকের কারণে দুর্ঘটনার পর অচল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার সংকট মোকাবিলায় ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বর্তমান সংকটের সময়ে বিরোধী দলগুলোর লং মার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগকে কাজে লাগিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে সংকট মোকাবিলায় সরকারের পাশে থাকা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, লং মার্চ করে যদি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান করা যেত, তাহলে সরকারি দলই সবার আগে লং মার্চের আয়োজন করত। তাঁর মতে, সংকটের সময়ে দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।
বিরোধী দলকেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা থাকা দরকার। জাতীয় সংসদেই এসব বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সংকট মোকাবিলায় বিএনপির অতীতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের উদাহরণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তখনই বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
জিয়াউর রহমানের সময় দেশের খাদ্য উৎপাদন ও রপ্তানি এবং মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রপ্তানির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি। একইভাবে ১৯৯১ সালের সরকারের সময় নারীশিক্ষার প্রসার ও দারিদ্র্য কমানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমান সরকার অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জাতীয় স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
১০৮ বার পড়া হয়েছে