সর্বশেষ

জাতীয়

ছেলেকে না দেখেই মারা গেলেন চিন্ময়ের মা

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:২২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কারাগারে থাকা ছেলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে শেষবারের মতো দেখার ইচ্ছা ছিল মা সন্ধ্যা রাণী ধরের। অসুস্থ মাকে দেখতে চিন্ময়কে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করা হলেও সেই সুযোগ মেলেনি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে মারা গেছেন সন্ধ্যা রাণী ধর।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটের দিকে শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে সন্ধ্যা রাণী ধরের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে গত মঙ্গলবার তিনি নিজেই ওই আশ্রমে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসও এই আশ্রমে অবস্থান করতেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ হয়ে সন্ধ্যা রাণী ধর চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়। তবে হাসপাতালে থাকতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলেন না। ছেলের সঙ্গে সম্পর্কিত স্মৃতিবিজড়িত পুণ্ডরীক ধামেই জীবনের শেষ সময় কাটাতে চেয়েছিলেন তিনি।

সন্ধ্যা রাণীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁর ছেলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ভাই অঞ্জন কুমার ধর বলেন, জীবিত অবস্থায় মা তাঁর ভাইকে একবার দেখার সুযোগও পাননি।

চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর জানান, তাঁরা মায়ের মরদেহ হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাচ্ছেন। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হবে। পরিবারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামেই সন্ধ্যা রাণী ধরের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

পরিবারের ভাষ্য, ছেলে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় সন্ধ্যা রাণী ধর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ছেলের অসুস্থতার খবর, জামিন না হওয়া এবং কারামুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তাঁকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। সর্বশেষ চিন্ময়ের জামিন শুনানিকে ঘিরে পরিবার আশাবাদী থাকলেও জামিন না হওয়ায় তাঁর উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের মধ্যে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রেও জটিলতা দেখা দেয়। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর চিকিৎসা চলছিল।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী বর্তমানে কারাগারে আছেন। অসুস্থ মাকে দেখার জন্য তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পরিবার। তবে সেই আবেদন নাকচ করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, চিন্ময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই তাঁর মা ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। এর আগেও ছেলের অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ছেলেকে একবার দেখার আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হয়েই তাঁর মৃত্যু হলো।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন