সর্বশেষ

জাতীয়

WHO-র তদন্তের মুখে পদত্যাগ: শেখ হাসিনার মেয়ের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ ছিল?

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:১৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
জালিয়াতিসহ একাধিক অভিযোগের তদন্তের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি WHO মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুসের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারানোর কথা উল্লেখ করেছেন।

সায়মা ওয়াজেদ ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে WHO-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে) তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করে। এরপর ২০২৫ সালের জুলাই থেকে WHO তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠায় এবং পরে তা অবৈতনিক (unpaid) করা হয়।

WHO-র পক্ষ থেকে সায়মার বিরুদ্ধে তিন ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালানো হচ্ছিল। প্রথমত, চীন সফর-সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম বা জালিয়াতির অভিযোগ। দ্বিতীয়ত, শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে অসত্য তথ্য প্রদানের অভিযোগ। তৃতীয়ত, বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ। সায়মা এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পদত্যাগপত্রে সায়মা লিখেছেন, WHO মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস তার দায়িত্ব পালনে “ক্রমাগত বাধা” সৃষ্টি করায় সংস্থার নেতৃত্বের প্রতি তার “আস্থা ও বিশ্বাস” হারিয়ে গেছে। পাশাপাশি প্রায় এক বছর বেতন না পাওয়ায় তার আর্থিক অবস্থা “অসহনীয়” হয়ে পড়েছে, তাই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই পদত্যাগপত্রের অংশবিশেষ প্রকাশিত হয়েছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সায়মার পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। চীন সফর-সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে তার আইনজীবীদের ৩ জুলাই ২০২৬-এর চিঠিতে বলা হয়েছে, এটি ছিল একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুল; জড়িত টাকার পরিমাণ প্রায় ৯০১ ডলার। শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের জবাবে সায়মা দাবি করেছেন, বাংলাদেশে অটিজম-সংক্রান্ত কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট পেয়েছেন এবং বিষয়টি WHO প্রধানকে আগে থেকেই জানিয়েছিলেন। জমি অধিগ্রহণের অভিযোগের ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন, WHO-তে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অধিকারী হন এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় তিনি তা পেয়েছিলেন।

WHO-র নিয়ম অনুযায়ী, প্রশাসনিক ছুটি (administrative leave) শাস্তিমূলক নয়; তবে সায়মার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাকে পর্যাপ্ত কারণ জানানো হয়নি, স্বচ্ছ তদন্তের অভাব ছিল এবং পরবর্তীতে বেতন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কিছু বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের চাপে WHO এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কিনা—এটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে; সায়মা নিজেও একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, WHO এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানায়নি; সংস্থাটি গোপনীয়তার কথা বলে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।

এই ঘটনার পর বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, এটি WHO-র জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ছিল; অন্যরা মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সায়মার পদত্যাগের পর WHO-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালকের পদটি শূন্য হয়েছে এবং সংস্থাটি পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

১২৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন